শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ জুন, ২০১৯ ১৭:২৪
আপডেট : ২৬ জুন, ২০১৯ ১৯:১৬

সিলেটে ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, মেয়র বললেন, ‘উন্নয়নের ভোগান্তি’

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেটে ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানি, মেয়র বললেন, ‘উন্নয়নের ভোগান্তি’

সিলেটে এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও জমেছে হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর সমান। ফলে জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়েছে নগরীর বৃহৎ অংশের মানুষকে। 

তবে এই দুর্ভোগকে ‘উন্নয়নের ভোগান্তি’ হিসেবে দাবি করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাস্তা সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় টানা বৃষ্টিতে সাময়িক এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি মেয়রের।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা টানা মোষলধারে বৃষ্টি হয়। এছাড়া সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে নগরীর সুবিদবাজার, লাভলী রোড, পশ্চিম পাঠানটুলা, বনকলাপাড়া, মদিনা মার্কেট, জিন্দাবাজার, হাওয়াপাড়া, দাড়িয়াপাড়া, সওদাগরটুলা, সেনপাড়া, উপ-শহরসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় পানির নিচে। অনেকের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উঠে যায় পানি। ফলে বিকেল থেকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয় জলাবদ্ধতার শিকার নগরবাসীকে।

নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাঠানটুলায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে পানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে চলাচল করার সময় রিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতেও দেখা গেছে। 

নগরীর উপশহরের বাসিন্দা হাসিন আহমদ বলেন, বিকেলের বৃষ্টিতে তার বাসায় পানি উঠে যায়। বৃষ্টির পানিতে ঘরের আসবাবপত্র ভিজে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তবে নগরবাসীর এই দুর্ভোগ সাময়িক বলে দাবি করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। কাজের সুবিধার্থে কিছু ড্রেনে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এই বাঁধের কারণে টানা বৃষ্টিতে অনেকস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টি কমার সাথে সাথে পানিও নেমে যাচ্ছে। 

আরিফুল হক চৌধুরী আরও জানান, নগরীর সকল পানি ছড়া-খাল দিয়ে সুরমা নদীতে গিয়ে পতিত হয়। কিন্তু সুরমা নদী ভরে যাওয়ায় বেশিরভাগ ছড়া-খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। তবে সিটি করপোরেশন যদি সময়মতো ছড়া-খাল খনন ও ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ না করতো তবে টানা এই বর্ষণে নগরীতে আরও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো বলে দাবি করেন মেয়র। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য