শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:১২

নকশা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন

নির্বিকার রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

নকশা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন

ভবন নির্মাণের আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছ থেকে নকশা অনুমোদন করা হচ্ছে। কিন্তু ভবন নির্মাণের সময় আর সেই নকশা মানা হচ্ছে না। রাজশাহী নগরীতে এভাবে অসংখ্য ভবন গড়ে উঠছে। অভিযোগ পেলে আরডিএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু একটি ভবনও ভাঙা হয় না। আরডিএ কর্মকর্তারাও কখনো নকশা লঙ্ঘন করা ভবন ভাঙতে অভিযান চালান না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমি থাকলেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বহুতল ভবনের অনুমোদন না মিললে পাঁচতলা অনুমোদন নিয়েই গড়ে তুলছেন বহুতল ভবন। মাথা উঁচু করে গড়ে তোলা এসব ভবন থেকে দেখা দিয়েছে প্রাণহানির আশঙ্কা। এখনই পদক্ষেপ না নিলে বিপদ বাড়বে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীতে ২০০৯ সাল থেকে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর আগে নগরীতে ১০ তলা ভবন বলতে ছিল কেবল সিঅ্যান্ডবি মোড়ে একটি ভবন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ১০ তলা ভবন এখন ৫০টির বেশি। ২০১৩ সালে নগরীতে ৬০০ ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ তলা পর্যন্ত ৫৬৫টি এবং ছয়ের অধিক তলা ভবনের অনুমোদন ছিল ৩৫টির। ২০১৪ সালে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫০২টির। এর মধ্যে ৪৮৬টি পাঁচতলা পর্যন্ত এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন ৩৫টি। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫৪টি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টি পাঁচ তলা পর্যন্ত এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন অনুমোদন ছিল ৩৩টি। এর পরের চার বছরে আরও অন্তত দেড় হাজার ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভবন মালিকরা যে নকশা অনুমোদন করেন পরে আর তা মানা হয় না। এ কারণে আবাসিক ভবন হলে পরে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। নকশা লঙ্ঘন করার কারণে ফ্ল্যাটগুলোর রেজিস্ট্রি দেওয়া সম্ভব হয় না। তারপরও নগরীতে এমন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

নগরীর পদ্মা ও পারিজাত আবাসিক এলাকায় দুটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করে দিয়েছেন মাসুদ রানা নামের একজন প্রকৌশলী। তার আরও তিনটি ভবনের কাজ চলমান। কিন্তু একটি ভবনেরও অনুমোদিত নকশা মানেননি মাসুদ রানা। ফলে এসব ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রি করতে চাইলে রেজিস্ট্রি দিতে পারছেন না মালিকরা। তবে মাসুদ রানার দাবি, মালিকদের চাপেই তিনি নকশা মানতে পারেননি।

আরডিএ’র অথোরাইজড কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘নিয়মের মধ্যে থেকেই ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমোদনের পর অনেকেই নকশা লঙ্ঘন করে ফেলেন। সেক্ষেত্রে আমরা ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেই। মালিকরা ভবন না ভাঙলে এক সময় আমরাই ভাঙার ব্যবস্থা করব।’


আপনার মন্তব্য