শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৫

মুক্তিযুদ্ধে জিয়া পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধে জিয়া পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন : তথ্যমন্ত্রী

জিয়াউর রহমানের ‘বীরউত্তম’ খেতাব চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন। যুদ্ধে জিয়ার ভূমিকা ছিল মূলত পাকিস্তানের পক্ষে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় বেতার ভবনে গতকাল বিশ্ব বেতার দিবস-২০২১ উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছেন তাদের বড় বড় পদে বসিয়েছেন জিয়া। তার বড় প্রমাণ তিনি শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সহযোগী হয়ে কাজ করেছেন। বিশ্ব বেতার দিবস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বেতারের গুরুত্ব এখনো কমেনি। পাহাড় ও বঙ্গোপসাগরে মাঝিদের কাছে বেতার এখনো জনপ্রিয়। কম খরচে এ মাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়া যায়। আগামীতে বেতার নিয়ে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। দেশ পাল্টাচ্ছে, বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। দেশ ও যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে বাংলাদেশ বেতারের উন্নয়ন করা হচ্ছে। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বেতার পৌঁছে যাবে সে জন্য কাজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বেতার এখন সারা বিশ্বে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বেতারের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব খাজা মিয়া, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক আহম্মদ কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

‘বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এম এ হান্নান পাঠ করেন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরদিন ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতারা সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে দিয়ে ঘোষণাটি পাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে মেজর রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি রণাঙ্গনে ব্যস্ত থাকায় পরে কালুরঘাট অতিক্রম করে পটিয়ার দিকে যাত্রাকারী মেজর জিয়াউর রহমানকে বোয়ালখালী থেকে খুঁজে এনে ঘোষণাটি পাঠের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে তিনি ভুল পড়েছিলেন, পরের বার শুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণাটি পড়েন। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাবার জন্য এটি শোনানো প্রয়োজন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, তথ্য অধিকার ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বেতার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিকদের মধ্যে মনোরঞ্জন ঘোষাল, মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক বিধান চন্দ্র কর্মকার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহীন ইসলাম, বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালকদের মধ্যে নেছার উদ্দীন ভূঁইয়া, হোসনে আরা তালুকদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক সালাহউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক কামাল আহমেদ, উপমহাপরিচালক  বার্তা এস এম জাহীদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর