ঢাকায় চার দিনব্যাপী ১৮তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার ২০২৬ (IPF-26) আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB)-তে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা তুলে ধরে মেলার পরিসমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের সভাপতি মি. মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথিছিলেন সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসসিসিআই) সভাপতি মি. মো. জসিম উদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মি. শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং (বিপিজিএমইএ) -এর সাবেক সভাপতি ও লুনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. এ. এস. এম. কামাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর সভাপতি মি. শামীম আহমেদ। সহ-আয়োজকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল কোং লিমিটেডের ওভারসিজ ডিরেক্টর মি. আকাই লিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মি. মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার এখন একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সুপরিচিত মেগা ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর ১৮-২০টি বিদেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক, বিপণনকারী ও রপ্তানিকারকদের উপস্থিতিতে এই মেলা শিল্পখাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। তিনি দ্রুত প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং নতুন সম্ভাবনাময় প্লাস্টিক সাব-সেক্টর বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মি. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, IPF-26 প্রমাণ করেছে যে প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্প এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৮টি দেশের অংশগ্রহণ, ৭০০-এর বেশি স্টল ও বৃহৎ প্রদর্শনী এলাকা এই শিল্পের আন্তর্জাতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি বহন করে। তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, অটোমেশন, রিসাইক্লিং প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার শিল্পের ইতিবাচক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিপিজিএমইএ সভাপতি মি. শামীম আহমেদ বলেন, IPF-26 শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, এটি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার মিলনমেলা। এই মেলা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং জোরদার করেছে এবং স্থানীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করেছে।
সমাপনী বক্তব্যে সহ-আয়োজকের পক্ষ থেকে মি. আকাই লিন দেশি ও বিদেশি প্রদর্শক, অংশগ্রহণকারী, স্পনসর ও দর্শনার্থীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতে প্লাস্টিক শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও টেকসই উন্নয়ন আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিডি প্রতিদিন/মুসা