জীবন বিমার প্রচলিত ধারণা হলো বিমার মেয়াদ পূর্ণ হলে কিংবা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষেত্রেই গ্রাহককে এককালীন বিমার অংক প্রদান করা হয়। মানুষ সাধারণত জীবন বিমা করে থাকে তার প্রস্থানের পরও যেন পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে। কিন্ত জীবদ্দশাতেই অনেক সময় বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন পড়তে পারে। সন্তানের শিক্ষা, বিয়ে, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ব্যবসায় বিনিয়োগ; যেকোনো প্রয়োজনে অর্থের দরকার হতে পারে হুট করেই।
মানুষের জীবনের এমন বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে গতানুগতিক ইন্স্যুরেন্সের বাইরেও রয়েছে কিছু ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা। যেমন, দেশের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ৩-৪-৫ কিস্তি মেয়াদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দিয়ে থাকে। এই পরিকল্পনায় ইন্স্যুরেন্সের মোট অংক মেয়াদের শেষে একবারে গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হয় না বরং গ্রাহক কিস্তি পূরণ করতে থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে তারা হাতে পান প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা। এটি একদিকে যেমন সঞ্চয় নিশ্চিত করে, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে সহজে পাওয়া যায় বড় অংকের অর্থ।
এই তিন, চার বা পাঁচ কিস্তির যে কোনো একটি পলিসি বেছে নিয়ে গ্রাহক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিমা পরিকল্পনা সাজাতে পারেন। ধরা যাক, একটি পরিবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক বছর পর বড় অংকের টাকা প্রয়োজন হবে জানে। তারা ৩ কিস্তির পরিকল্পনা নিতে পারে। এতে করে নির্দিষ্ট বছর পরপর তারা বিমা অংকের অংশ পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে, কেউ ভবিষ্যতের জন্য ধাপে ধাপে অর্থ পেতে চাইলে ৪ বা ৫ কিস্তির পরিকল্পনাই হতে পারে উপযুক্ত। ফলে গ্রাহক প্রতি কিস্তিতে যে বড় অংকের অর্থ পাবেন তা তিনি চাইলে কোথাও বিনিয়োগ করতে পারেন, চাইলে কোনো ব্যাংকে এফডিআর করে রাখতে পারবেন কিংবা পরিবারের কোনো প্রয়োজনে সেই অর্থ কাজে লাগাতে পারবেন। জীবন বিমা পরিকল্পনায় ইন্স্যুরেন্সের অর্থ এভাবে নিজের প্রয়োজন মাফিক পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশে মেটলাইফ, গার্ডিয়ান, জীবন বীমাসহ বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানের রয়েছে স্টেজ প্ল্যান। উদাহরণস্বরূপ, গার্ডিয়ান লাইফের রয়েছে ‘গার্ডিয়ান স্টেজ প্ল্যান’। গ্রাহক এই পরিকল্পনায় তিন, চার কিংবা পাঁচ কিস্তির ইন্স্যুরেন্স পলিসি নিতে পারবেন। অর্থাৎ, গ্রাহক তিন, চার বা পাঁচ; যে কিস্তিরই ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা গ্রহণ করুন না কেন, তিনি মেয়াদ (১০ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত) শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিন/চার/পাঁচ কিস্তিতে তার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নিতে পারবেন। এই তিন ধরনের পরিকল্পনাতেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে ও মেয়াদপূর্তিতে পলিসি চালু থাকা সাপেক্ষে মূল ইন্স্যুরেন্স অংক বোনাসসহ প্রদান করা হয়। পলিসির মেয়াদ শেষ হলে অবশিষ্ট অংশও বোনাসসহ দেওয়া হবে।
এছাড়াও, ইন্স্যুরেন্স গ্রহীতার আকস্মিক মৃত্যুতে ১ম, ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ কিস্তি গ্রাহককে প্রদানের পরও নমিনিকে বিমার সম্পূর্ণ অর্থ বোনাসসহ প্রদান করা হয়।