সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি, নষ্ট জেনারেটর, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতালটি। ফলে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালে একটি উন্নতমানের জেনারেটর থাকলেও তা প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে নষ্ট। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। সম্প্রতি বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটির কারণে টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। গ্যাসের অভাবে অনেক শ্বাসকষ্টের রোগী কষ্টে ছিলেন। এ সময় নার্সরা মোবাইলের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে যন্ত্র থাকলেও চিকিৎসক, যন্ত্রচালক ও প্রয়োজনীয় ফিল্মের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অজ্ঞান করার চিকিৎসক না থাকায় সিজারসহ কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এছাড়া ওয়ার্ড বয়, আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আফরোজা খাতুন জানান, কয়েক বছর আগেও এখানে সিজার হতো, কিন্তু এখন আর হয় না। বাধ্য হয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শহরে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এতে খরচ ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে, কখনো কখনো মা ও শিশুর জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।
আরেক রোগী শাহিন আলমসহ অনেকে জানান, হাসপাতালে যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মমিন হাসপাতালের সংকট স্বীকার করে জানান, এখানে ১১ জন জুনিয়র পরামর্শকের মধ্যে মাত্র ১ জন, ২৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৩ জন, ২ জন চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদের মধ্যে ১ জন কর্মরত আছেন। এক্স-রে চালানোর কোনো কর্মী নেই। অফিস সহায়ক ২ জনের মধ্যে ১ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড বয় ও নিরাপত্তা প্রহরী নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে জেনারেটর মেরামত করা যাচ্ছে না। চিকিৎসক সংকট ও ফিল্মের অভাবে এক্স-রে এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবা বন্ধ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে কামারখন্দ উপজেলার মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক