সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় জায়েদা বেগম নামে এক বিধবা নারীকে কুপিয়ে আহত এবং তার বসতঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দ্রকোনা গ্রামের আবু হাসান খান, তার ছেলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাউসার আহমেদ এবং তাদের সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় জায়েদা বেগমের বাড়িতে হামলা চালান। হামলার সময় বসতঘর, খুঁটি, বেড়া ও বাউন্ডারির ইট ভেঙে নিয়ে গিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী মৃত্যুর পর একজন প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে স্বামীর ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন জায়েদা বেগম। তার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই আবু হাসান খান ওই জমি নিজের দাবি করে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং একাধিকবার দখলের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানান।
সর্বশেষ রবিবার সন্ধ্যায় হামলার সময় জায়েদা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত জায়েদা বেগমের মেয়ে কোহিনুর খাতুন সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জায়েদা বেগম বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এই জমি ভোগদখল করে আসছি। আমার স্বামী বেঁচে থাকতে কেউ এ জমির দাবি করেনি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর থেকেই জমিটি দখলের জন্য আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করা হয়েছে এবং আমার ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল