ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হামিরদী ও মানিকদহ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছে। সোমবার (২৯ জুন) ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় আড়াইশ’ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের পরে রবিবার রাতে হামিরদী ও মানিকদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের করা এই মামলায় তারা আসামি হলে তাদেরও ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, রবিবারের সংঘর্ষে ভাঙ্গা থানার ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আহত উপপরিদর্শক মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই এলাকায় পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বাসস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে হামিরদী ও মানিকদহ ইউনিয়নের ১০ গ্রামবাসীর মধ্যে চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চার ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিআরশেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আনা হয়।
সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজোয়ান দীপু (৩৮), ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান (৪৭), ভাঙ্গা থানার তিনজন এসআই, চারজন কনস্টেবল আহত হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিন পুলিশ সদস্য এখনও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এছাড়া সংঘর্ষে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।
বিডি-প্রতিদিন/এমই