মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করছেন শত শত পরিবার। চর জানাজাত ইউনিয়নের সামিদ খান কান্দি এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের এই জনপদে জনসংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি হলেও এখনো নেই বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে বহু বছর আগে তারা এখানে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে কৃষিকাজ ও মাছ ধরার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন তারা। কিন্তু অনিশ্চিত আয়, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের জীবন এখনো কঠিন।
চরে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই অল্প বয়সেই শ্রম কাজে যুক্ত হয়ে পড়ছে। একইভাবে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ হলে রোগীদের উপজেলা সদরে নিতে হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল; নদী পাড়ি দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়, যা জরুরি সময়ে বড় ভোগান্তি তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দা করিম মাদবর বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে আছি, কিন্তু বিদ্যুৎ, স্কুল বা হাসপাতাল কিছুই নেই। অসুস্থ হলে দূরে নিতে গিয়ে অনেক সময় রোগী মারা যায়।” আরেক বাসিন্দা সোহেল সরকার বলেন, “আমরা দরিদ্র মানুষ, নিজেদের পক্ষে উন্নয়ন করা সম্ভব না। সরকারের দৃষ্টি চাই।”
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, চরের মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার মধ্যেও চরবাসীর আশা, একদিন তাদের এই জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছাবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ