শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:২০

চাঁদের বুড়ি

মুহাম্মদ তারিক জামিল

চাঁদের বুড়ি

তুলি বায়না ধরেছে চাঁদ দেখবে।  চাঁদের আলো নিজের গায়ে মাখবে। এজন্য রাতে পড়া শেষ করে বাবার কাছে গিয়ে বলল— বাবা তুমি না আজ আমায় চাঁদ দেখাবে? বাবা বলল, হ্যাঁ তোমাকে চাঁদ দেখাব বলেই তো বসে রয়েছি। অতঃপর তুলি তার বাবার হাত ধরে ঘর থেকে বের হলো। ঠিক উঠোনের মাঝখানটায় এসে দাঁড়াল।

আকাশে তখন পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের আলোয় ঝলমল করছিল প্রকৃতি। বৃক্ষলতা, দূর দিগন্তের সবুজ ফসলের মাঠ, কাশফুলের দোল খাওয়া, সবকিছু ঝলমল করছিল। দূর থেকে ভেসে আসছিল শিয়ালের হাক। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ।

তুলি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল প্রকৃতির এ অনিন্দ সৌন্দর্য। পূর্ণিমার রাতে গ্রাম্য এ দৃশ্যাবলী ওর দারুণ ভালো লাগে। এছাড়া যেন তার গ্রামের বাড়ি যাওয়াটাই বৃথা। তুলির বাবা তুলিকে বলল, চাঁদের আলোতে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগছে তাই না মা? হুম! অনেক ভালো লাগছে। জান  চাঁদের এমন মোহনীয় রূপ শরৎ কালেই  দেখা যায়।  কেননা শীতে কুয়াশা আর বর্ষায় মেঘের কারণে চাঁদ তার আলোকে আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। কেবল শরতের কুয়াশা ও বৃষ্টিহীন আকাশেই চাঁদ বিলাতে পারে তার রূপসী আলো।

তুলি তার বাবাকে বলল, আচ্ছা বাবা চাঁদে  কি কোনো বুড়ি আছে? বাবা বললেন, না চাঁদে কোনো বুড়ি টুড়ি নেই। এসব বানানো কল্পকাহিনী। কিন্তু মা তো বলল চাঁদে নাকি  বুড়ি আছে। সে সারাক্ষণ বসে বসে সুতো কাটে। বাবা বললেন, এগুলো রূপকথার গল্প। আমেরিকার মহাআকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’র বিজ্ঞানীরা  চাঁদে গিয়ে ঘুরে এসেছে। তারা জানিয়েছে চাঁদেও পাহাড়- পর্বত আছে। আর এই পর্বতকেই পৃথিবী থেকে দেখলে বুড়ি মনে হয়।

তুলির চোখ এবার কপালে। ওয়াও! চাঁদেও যাওয়া যায়?

বাবা একটু মৃদু হেসে বলল, হুম যাওয়া যায়। তুলি বলল তাহলে বাবা আমিও চাঁদে যাব। বাবা বলল, হ্যাঁ অবশ্যই তুমিও চাঁদে যাবে। শুধু চাঁদ কেন? চাঁদের মতো আরও অসংখ্য গ্রহ-উপগ্রহে তুমি ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু তার আগে তোমাকে ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। সায়েন্স পড়তে হবে। হতে হবে বিজ্ঞানী। শৈশব থেকেই বিজ্ঞান চর্চা করতে হবে।

তাহলে দেখবে তুমি একদিন হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। তখন শুধু চাঁদ নয়, আকাশ ছোঁয়ার সাধ জাগবে তোমার।

তুলি বলল, হ্যাঁ বাবা আমাকে বেশি বেশি পড়তে হবে। অনেক কিছু জানতে হবে। দেখতে হবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। বাবা বলল, এই তো আমার মা-মণিটা বুঝতে পেরেছ। বাবা মেয়ের এমন কথোপকথন চলতে চলতে, রাত অনেক গভীর হয়ে এলো। চাঁদের আলো, আঁধারে মিলিয়ে গেল। তুলি ও তার বাবা ঘরে ফিরে গেল।


আপনার মন্তব্য