শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৩

মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা নবী রসুলদের সুন্নত

মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী

মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা নবী রসুলদের সুন্নত

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সূচনা হয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই প্রিয় সাহাবির মাধ্যমে। বাণিজ্য ও ইসলাম প্রচারের জন্য চীনে যাওয়ার পথে বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করেন তাঁরা। তাঁদের মাধ্যমে এ দেশে ছড়িয়ে পড়ে ইসলামের দাওয়াত। বলা বাহুল্য, সাহাবিরা ইসলাম প্রচারে গণমানুষের বাংলা ভাষাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। মানুষ সৃষ্টি আর ভাষার ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। মানুষকে আল্লাহ স্বয়ং ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টির সবকিছুর নাম শিক্ষা দেন। এই শিক্ষাপ্রাপ্তির মাধ্যমে হজরত আদম (আ.) ভাষা সম্পর্কে অবহিত হন। সূরা ইবরাহিমের ৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি রসুলদের তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই পাঠিয়েছি, যাতে স্পষ্টভাবে তাদের বোঝাতে পারে।’ ভাষার বৈচিত্র্য আল্লাহর কুদরত। আল্লাহকে যে কোনো ভাষায় ডাকা যায়। যে কোনো ভাষায় তাঁর রহমত কামনা করা যায়। বুখারির হাদিসে বলা হয়েছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ সব ভাষা জানেন।’  আল কোরআনে আল্লাহর এই কুদরতের কথা উল্লেখ করে সূরা রুমের ২২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তাঁর আরও একটি নিদর্শন হলো আকাশ ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাব প্রকাশের ভাষা ও বর্ণের সৌন্দর্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’

ভাষা প্রতিটি জাতির নিজস্ব সম্পদ। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি জাতির জন্য উপহারবিশেষ। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমের মাতৃভাষা ছিল আরবি। তাঁর ওপর আল কোরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছিল। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতৃভাষার প্রতি এটি ছিল আল্লাহর সম্মান। আল্লাহর রসুল নিজেই বলেছেন তিনি তিনটি কারণে আরবি ভাষাকে ভালোবাসেন। প্রথমত আল কোরআনের ভাষা আরবি, দ্বিতীয়ত জান্নাতের ভাষা আরবি, তৃতীয়ত তাঁর মাতৃভাষা আরবি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ সব নবী-রসুল যেহেতু তাঁদের মাতৃভাষাকে ভালোবাসতেন সেহেতু মাতৃভাষাকে ভালোবাসা নবী-রসুলদের সুন্নত। মুসলমান হিসেবে আমাদেরও উচিত  মাতৃভাষাকে ভালোবাসা। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। অন্যসব ভাষার মতো এ ভাষাও আল্লাহর দান। আল্লাহর রহমত। এ ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ১৯৫২  সালে যাঁরা মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য লড়েছেন তাঁরা আল্লাহ-প্রদত্ত ভাষার হক প্রতিষ্ঠায় লড়েছেন। মুসলমানরা বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে দূর অতীতে সুলতানি আমলে। ইসলামচর্চায়ও এ ভাষার বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য