শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৯ ২২:৫৫

চা চাষের নতুন মোকাম

প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিন

চা চাষের নতুন মোকাম

এক সময় বাংলাদেশ ছিল অন্যতম চা রপ্তানিকারক দেশ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস ছিল চা। কালের বিবর্তনে দেশে চা উৎপাদন বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত পর্যায়ে বিদেশ থেকে চা আমদানিও করছে বাংলাদেশ। এক সময় চায়ের জন্য পরিচিতি ছিল বৃহত্তর সিলেট। দুটি পাতা একটি কুঁড়ি সিলেটের প্রতীকেও পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চা এখন উৎপাদিত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। বৃহত্তর দিনাজপুরের জেলাগুলোতে বিপুলভাবে বিস্তৃত হয়েছে চা চাষ। দারিদ্র্যপীড়িত পঞ্চগড়ে চা চাষ বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকার সংস্থান করেছে। দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই জেলার সমতল ভূমিতে চা চাষ করে ভাগ্য ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। শুধু পঞ্চগড়ই নয়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরেও এখন ক্ষুদ্র চাষিরা চা চাষ করছেন। এসব এলাকায় বাণিজ্যিকভাবেও চলছে চায়ের চাষাবাদ। পঞ্চগড়ে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চা চাষ হচ্ছে। এক সময় যেসব জমির কোনো মূল্যই ছিল না, বাড়ির আনাচে-কানাচে সেসব পতিত জমিতে চা চাষ করছে সাধারণ মানুষ। মাত্র কয়েক বছর আগেও এসব জমিতে কোনো ফসলই হতো না। এখন ওই জমিতে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির বাগান। দিন দিন বাড়ছে চা চাষের পরিধি। চায়ের মান ভালো হওয়ায় ইতিমধ্যে পঞ্চগড়ের চা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারেও দিন দিন চাহিদা বাড়ছে পঞ্চগড়ের চায়ের। ক্ষুদ্র চাষিরা চা চাষ করে অল্প খরচে বেশি লাভ পাচ্ছেন। তা ছাড়া চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যেই খরচ উঠে আসে। বৃহত্তর দিনাজপুরের জেলাগুলোতে পতিত জমিতে যেহেতু চা চাষ হচ্ছে সেহেতু অন্যান্য ফসলের জন্য তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। চা চাষ একদিকে যেমন দারিদ্র্যবিমোচনে ভূমিকা রাখছে অন্যদিকে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চা চাষ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে। দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে তা দেখা দেবে আশীর্বাদ হিসেবে। চা চাষের পাশাপাশি এ এলাকায় চা প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তা কৃষকদের চায়ের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে।


আপনার মন্তব্য