শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০১৯ ২২:৪৬

সাগরপথে মানব পাচার

অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

সাগরপথে মানব পাচার

সাগরপথে মানব পাচারকারী চক্রের কারসাজিতে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন কোনো না কোনো বাংলাদেশি। ইউরোপ কিংবা মালয়েশিয়ায় নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে পাচারকারীরা তাদের টার্গেট যুবকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারপর নৌকাজাতীয় নৌযানে কাউকে বাংলাদেশের টেকনাফ বা কক্সবাজার উপকূল থেকে মালয়েশিয়ায় কিংবা কাউকে আফ্রিকার আরব দেশ লিবিয়ার উপকূল থেকে ইউরোপে পাচার করার চেষ্টা চালানো হয়। পাচারের শিকার হতভাগ্য যুবকদের একাংশ মালয়েশিয়া কিংবা ইউরোপে পৌঁছতে পারলেও আরেক অংশ সাগরে সলিলসমাধির শিকার হয়। পাচারকারী চক্রের ছলনায় পড়ে কর্মসংস্থান নামের সোনার হরিণের খোঁজে মালয়েশিয়া কিংবা ইউরোপে পৌঁছে ভাগ্যান্বেষীদের সারাক্ষণ তটস্থ থাকতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে। এদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের কারাগারে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। গত ১২ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে নৌকাডুবিতে মারা যান ৩৭ বাংলাদেশি। এ পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার পাচারকারী চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে আক্কাস, খিলক্ষেত থেকে এনামুল ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়। অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির শিকার বাংলাদেশিরা এই মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন। সিলেটের জিন্দাবাজারে ইয়াহিয়া ওভারসিজ নামে একটি এজেন্সি আছে এনামুলের। ১০-১২ বছর ধরে তিনি মানব পাচারে জড়িত। আবদুর রাজ্জাক চার-পাঁচ বছর ধরে এনামুলের দালাল হিসেবে কাজ করছিলেন। আক্কাসও দু-তিন বছর ধরে একই মানব পাচারকারী চক্রের দালাল হিসেবে কাজ করছেন। তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংঘবদ্ধ চক্রটি বিদেশি চক্রের যোগসাজশে অবৈধভাবে ইউরোপে লোক পাঠিয়ে আসছিল। বিদেশে লোক পাচারের সঙ্গে অনেক চক্র জড়িত। আমরা আশা করব মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অশুভ চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে।


আপনার মন্তব্য