শিরোনাম
বুধবার, ১২ জুন, ২০২৪ ০০:০০ টা

কোরবানি ও হজ

আফতাব চৌধুরী

কোরবানি ও হজ

ইসলাম ধর্ম যে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে, তা হলো- কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, হজ ইসলাম ধর্মের এক অবশ্য পালনীয় বিধান। মক্কায় গিয়ে কাবাঘর প্রদক্ষিণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কর্তব্য সম্পাদনের মাধ্যমে হজ পালন করতে হয়। মক্কায় গিয়ে হজ পালন করা ব্যয়বহুল, তাই কেবল মাত্র সামর্থ্যবান মুসলিম নরনারীদের জন্যই হজ পালনের বিধান দেওয়া হয়েছে। হজ সম্পর্কে বলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই কোরবানির কথা এসে যায়। বাবল দেশের বাদশাহ নমরুদ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করতেন। খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ সালে সেই নমরুদ বাদশাহর দেহরক্ষী আজরের এক পুত্র জন্মগ্রহণ করে। নাম তার ইব্রাহিম। নমরুদ এবং আজর উভয়েই পৌত্তলিক হলেও ইব্রাহিম ছিলেন মূর্তি পূজার ঘোরতর বিরোধী। তাই নমরুদ ইব্রাহিমকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে, পাথর মেরে হত্যার চেষ্টা করলেন। ইব্রাহিমও নমরুদকে তাঁর সত্য ধর্ম গ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানান। শেষে নমরুদকে পরিবর্তন করতে বিফল হয়ে ইব্রাহিম (আ.) একদিন দেশ ছেড়ে চলে যান। নানা দেশ ঘুরে নিজের সত্য ধর্ম প্রচার করতে করতে ইব্রাহিম (আ.) এক সময় খাজায়েনুন ওয়াজাহ নামক দেশের বাদশাহর কন্যা, সারার স্বয়ম্ভর সভায় হাজির হন। দৈবক্রমে শাহজাদী সারা ইব্রাহিম (আ.)-কেই স্বামীরূপে গ্রহণ করেন। সারাকে বিয়ে করার পর ইব্রাহিম (আ.) পুনরায় স্বদেশ বাবলে ফিরে যান। দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও সারার গর্ভে কোনো সন্তান না-আসায় সারার বিশেষ অনুরোধে ইব্রাহিম (আ.) হাজেরা নামক আর এক মহিলাকে বিয়ে করেন। ভবিতব্য হিসেবে শিগগিরই হাজেরা গর্ভবতী হন এবং যথা সময়ে ইসমাইল নামে এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন। ইসমাইলের জন্মের পর হাজেরার ওপর সারা বিরূপ হয়ে ওঠেন। একদিন সারার গোঁয়ার্তুমি ইব্রাহিম (আ.) স্ত্রী হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে গাছ-পানি-মনুষ্যহীন এক নির্জন প্রান্তরে নির্বাসিত করতে বাধ্য হন। স্ত্রী-পুত্রকে নির্বাসনের ন’বছর পর ইব্রাহিম (আ.) একদিন স্বপ্নাদেশ পেলেন, ‘আল্লাহর নামে কোরবানি কর’। ইব্রাহিম (আ.) সেই মতো একশ উট কোরবানি করলেন। দ্বিতীয় দিনে ও স্বপ্নাদেশ পেলেন, ‘আল্লাহর নামে কোরবানি কর’। তৃতীয় দিন স্বপ্নাদেশ হলো, ‘তোমার প্রিয়জনকে আল্লাহর নামে কোরবানি কর’। ইব্রাহিম (আ.) বুঝলেন, তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইলকেই কোরবানির স্বপ্নাদেশ হয়েছে। কিন্তু কোথায় ইসমাইল! ন’বছর আগে যাকে নিশ্চিত মৃত্যু উপত্যকায় ছেড়ে এসেছেন, সে তো প্রাণে বেঁচে থাকার কথা নয়। তবুও স্রষ্টার আদেশ, তাই তিনি সেই মৃত্যু উপত্যকায় হাজির হন এবং আল্লাহর করুণায় স্ত্রী-পুত্রকে জীবিত দেখেন। স্রষ্টার আদেশ মতো ইব্রাহিম (আ.) চোখে কাপড় বেঁধে পুত্র ইসমাইলের গলায় খঞ্জর চালিয়ে কোরবানি করেন। তারপর চোখ খুলে দেখলেন, পুত্র ইসমাইল জীবিত অবস্থায় পাশে দাঁড়িয়ে এবং কোরবানি হয়েছে একটি দুম্বা। সে দিনটি ছিল দশই জিলহজ। সে দিনের সেই হৃদয় বিদারক ঘটনার স্মরণেই প্রতি বছর ১০ জিলহজ তারিখে মুসলিম সম্প্রদায় কোরবানি বা ঈদুল-আজহা পালন করে থাকেন ত্যাগের প্রতীক হিসেবে।  পালন করেন হজও। কোরবানি উৎসবেরই একটি বিশেষ অংশ হচ্ছে হজ। ইব্রাহিম (আ.) দ্বারা নির্বাসিত তৃষ্ণার্ত শিশু ইসমাইলের জন্য পানির খোঁজে সাতবার সাফা-মারওয়া পাহাড় পরিক্রমা, ইব্রাহিম (আ.) নির্মিত কাবা প্রদক্ষিণ ও ইসমাইলের কোরবানি করার ঘটনাকে স্মরণ করার মাধ্যমে হজ উদযাপন হয়ে থাকে। তবুও প্রথম হজ অনুষ্ঠিত হয় নবম হিজরি বা ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে।

 

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর