জামায়াতের নেতাদের কিছু বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এসব কথা হয়তো তাদের কর্মীদের সাহস দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জামায়াতের প্রার্থী দাবি করেছেন ঢাকায় কোনো আসন দেওয়া হবে না। অথচ আসনের মালিক আল্লাহ। জনগণ যাকে সমর্থন করবে, আল্লাহ তাকেই সাহায্য করবেন এবং সেই ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা কখনো বলিনি অন্য কাউকে কোনো আসন দেওয়া হবে না। নির্বাচন একটি অনিশ্চিত প্রক্রিয়া। প্রতিটি আসনই ভোটারদের রায়ের ওপর নির্ভর করে। জনগণের সমর্থনের মাধ্যমেই প্রার্থী নির্বাচিত হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে জন্মসূত্রে কোনো নাগরিক যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন, তবে সেই নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই। আরপিও অনুযায়ী হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে আবেদন গ্রহণ বা অগ্রহণের বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, শুরুতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক উপরের দিকে রাখা হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীক রাখা হয়েছে মাঝখানে, যা ব্যালট ভাঁজ করলে ভাঁজের মধ্যে পড়ে যায়। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এটি তাদের অজান্তেই অফিসের লোকজনের মাধ্যমে হয়েছে এবং বিষয়টি তারা খেয়াল করেননি।
এই প্রসঙ্গে তিনি দীর্ঘ ব্যাখ্যায় বলেন, পোস্টাল ব্যালট যেগুলো বিদেশে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে, সেগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেই বর্ণানুক্রম মানা হয়নি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপেল আর আনারসের ক্ষেত্রে আ আগে না এ আগে, দন্ত্য ন আগে না প আগে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে ব্যালটের সাজানোতেই গরমিল ধরা পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আরপিও অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে সব প্রতীক থাকার কথা, কারণ প্রতীক বরাদ্দ তখনো হয়নি। কিন্তু কত কলাম বা কত লাইন থাকবে, তা আরপিওতে বলা নেই। এখানে পাঁচটি কলাম ও চৌদ্দটি লাইন করে এমনভাবে ব্যালট তৈরি করা হয়েছে, যাতে ধানের শীষ মাঝখানে পড়ে যায়। তিনি বলেন, এটি কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত, সেটি প্রশ্নের বিষয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, যদি চৌদ্দ লাইনের পরিবর্তে পনেরো লাইন করা হতো, তাহলে প্রতীকগুলোর অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই বদলে যেত। তাহলে ধানের শীষ তৃতীয় লাইনে, দাঁড়িপাল্লা অষ্টম লাইনে, শাপলা কলি আরও নিচে চলে যেত। অর্থাৎ ডিজাইনেই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল।
তবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তারা সংকট তৈরি করতে চান না। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং চায় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক। সে কারণেই অনেক বিষয় থাকার পরও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বড় প্রশ্ন তুলছে না।
প্রবাসী ভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শত শত ব্যালট পেপার এক জায়গায় জমা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে সংগঠন নেই বলা হলেও বাস্তবে সেখানে ভিন্ন নামে একই সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। নাম আলাদা হলেও কার্যক্রম একই এবং নিয়মিত যোগাযোগ ও অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া ভালো বার্তা দেয় না। কত ধরনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে, সেটাই এখন প্রশ্ন। ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আবারও বলেন, ঢাকায় কোনো আসন দেওয়া হবে না—এমন কথা বলার ক্ষমতা কারও নেই। আসনের মালিক আল্লাহ। আল্লাহ জনগণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ১৯৯১ সালে ঢাকায় সব আসন পেয়েছিলাম। তবু আমরা কখনো বলিনি অন্য কেউ কোনো আসন পাবে না। নির্বাচন অনিশ্চিত। যে কেউ জিততে পারে। এটাই গণতন্ত্র।
সবশেষে তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। জিয়া পরিবার থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে তারেক রহমান পর্যন্ত দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থা কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।
বিডি প্রতিদিন/আশিক