জাতীয় সংসদ ও গণভোটের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার সকালে। শেষ মুহূর্তে প্রচারণা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রচারণার মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। দুই-একটি স্থানে হালকা উত্তেজনা থাকলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক প্রার্থী কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবার লাঙল প্রতীকের শক্ত অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩০টিতে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলেও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দলটি তিন থেকে চারটি আসনে জয় পেতে পারে। যদিও তারা ১৫-১৬টি আসনে জয়ের আশা করছে।
নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত মাঠ গরম রেখেছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল। সোমবার দুপুরের পর জামায়াতে ইসলামী নগরীতে বিরাট নির্বাচনি মিছিল বের করে। বিএনপি বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। রংপুর সদরে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বেও মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ থাকবে। ফলে সোমবার রাত পর্যন্তই ছিল প্রার্থীদের শেষ সুযোগ। নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটারের একটি অংশের মধ্যে আগ্রহহীনতা রয়েছে। যিনি এসব ভোটারকে বেশি সংখ্যায় কেন্দ্রে আনতে পারবেন, তার জয়ের সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। বিষয়টি অনুধাবন করে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি।
রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জাতীয় পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাশাপাশি বিভাগের অন্য সাত জেলায় দলটির আরও ২৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। মাঠপর্যায়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর সদরসহ আরও দুই-তিনটি আসনে জাতীয় পার্টি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। তবে অধিকাংশ আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইয়াসির আহমেদ বলেন, রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টি ১৬টির মধ্যে ১৬টি আসন পাবে। তবে জামায়াতে ইসলামী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, এতে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি—উভয় দলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল