Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:২৬

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

অচল মেশিনেই রোগ নির্ণয়-চিকিৎসা!

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

অচল মেশিনেই রোগ নির্ণয়-চিকিৎসা!

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট ১০০ এম এ মডেলের একটি এবং ২০০৫ সালের ২৩ মে ৩০০ এম এ মডেলের একটি এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়। মেশিন দুটির জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো থাকলেও নেই দক্ষ জনবল। ইতিমধ্যে মেরামত অযোগ্য হয়ে এ দুটি মেশিন দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে। অন্যদিকে, পার্শ¦বর্তী রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৮৩ সালের ২৬ জুন দেওয়া হয় একটি এক্স-রে মেশিন। মেশিনটি পরিচালনায় দক্ষজনবল থাকলেও অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে এটি। রোগীর সেবায় কাজে আসছে না। অভিন্ন চিত্র চট্টগ্রামের অপরাপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর। এভাবে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা উপকরণগুলো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও উপকরণ থাকলে নেই দক্ষ জনবল। কোথাও জনবল থাকলে মেশিন নেই। কোথাও আবার সংকট অবকাঠামোর। কোথাও উপকরণ পড়ে রয়েছে বাক্স বন্দী হয়ে। কোথাও সচল উপকরণকে অচল দেখিয়ে রোগীদের পাঠানো হয় বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ফলে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবার হাল চরম বিপর্যয়ের মুখে আছে। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি সেবা থেকে। অপেক্ষাকৃত স্বাবলম্বীরা বেসরকারি সেবা কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারলেও চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘চিকিৎসা উপকরণগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কয়েকদিন আগে একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

তাছাড়া এর সঙ্গে কী কী স্বাস্থ্য উপকরণ দরকার তাও জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অতীতে মন্ত্রণালয় বা অধিদফতর থেকেই উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা উপকরণ পাঠিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 এখন তৃণমূল পর্যায় থেকেই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসা উপকরণ দেওয়া হবে। সে হিসাবে আমরা একটি তালিকা পাঠিয়েছি। আশা করি এবার কিছু চিকিৎসা উপকরণ পাওয়া যাবে।’ চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৭ মে আনোয়ারা, ২০১৪ সালের ১৩ জুন বাঁশখালী, ২০১০ সালের ১১ জানুয়ারি বোয়ালখালী, ২০১০ সালের ৭ জুলাই ফটিকছড়ি, ২০০৮ সালের ১৮ মে হাটহাজারী এবং ২০০৫ সালের ২১ জুন মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া এক্স-রে মেশিনগুলো বর্তমানে মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। এসব মেশিন আর মেরামত করা যাবে না মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। অন্যদিকে, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি, পটিয়া, সন্দ্বীপ ও সীতাকুন্ডে নেই আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন। তাছাড়া উপজেলার কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই নেই প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল। ১৪ উপজেলায় অ্যানেসথেশিয়া মেশিন আছে। তবে পটিয়া ছাড়া কোথাও দক্ষ জনবল নেই। আর হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান ছাড়া আর কোথাও অটো-অ্যানালাইজার মেশিন নেই। তবে ১৪ উপজেলায় সচল রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। ১৪ উপজেলায় ১৪টি ডেন্টাল মেশিনের মধ্যে সচল ৬টি। ৪৫টি মাইক্রোসকোপ মেশিনের মধ্যে সচল আছে ২৯টি। ৩১টি ইসিজি মেশিনের মধ্যে অচল ১৫টি। অভিযোগ আছে, উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ না থাকায় রোগীরা চরম সংকট আর ভোগান্তিতে পড়েন। এক্স-রে, ইসিজিসহ সাধারণ টেস্টের জন্যও রোগীদের জেলা সদরে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। এতে করে রোগী ও স্বজনদের সময় এবং অর্থ অপচয় হয়। সঙ্গে থাকে দুর্ভোগ। অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের উপজেলা থেকে সদর হাসপাতালে আনার পথেই পরপারে চলে যাওয়ার উদাহরণও আছে। নগরের আশপাশের পাঁচ উপজেলা- পটিয়া, আনোয়ারা, হাটহাজারী, বোয়ালখালী ও সীতাকুন্ডের বাসিন্দারা দ্রুত সদর হাসপাতালে আসতে পারলেও অপেক্ষাকৃত দূরের রোগীদের পড়তে হয় চরম বিপাকে। মুমুর্ষূ রোগীদের ক্ষেত্রে সংকট পড়ে অ্যাম্বুলেন্সের। অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা উপকরণের সংকটকে পুঁজি করে বাণিজ্য চলছে আশপাশের ল্যাবে। সেখানে চড়ামূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয় রোগীদের। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা এক রোগী বলেন, ‘বুকের ব্যথা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসক ইসিজি করাতে বলেন। কিন্তু এখানে মেশিন থাকলেও সেটি দিয়ে করানো যাচ্ছে না বলে জানানো হয়। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ইসিজি করে এনেছি।’ এখানকার আরেক রোগী ফরিদুল আলম বলেন, ‘পেটের ব্যথা নিয়ে আসার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে বলে। কিন্তু এখানে কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ল্যাব থেকে করে আনতে হয়েছে। কিন্তু আমরা শুনে আসছি সরকার উপজেলা পর্যায়ে সব ধরনের সেবা চালু করেছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর