শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

অপেক্ষায় পণ্যবোঝাই ৬ হাজার ট্রাক

বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত, রাজস্ব আদায়ে ধস

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

অপেক্ষায় পণ্যবোঝাই ৬ হাজার ট্রাক

বেনাপোল বন্দরের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল কালিতলা পার্কিংয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে ৬ হাজার পণ্যবোঝাই  ট্রাক। ফলে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. আজিজুর রহমান। জানা গেছে, বাংলাদেশে একটি আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করতে সময় লাগছে ৩০ থেকে ৩৫ দিন। আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য সেখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ট্রাক থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ও পণ্য প্রবেশে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বড় বড় আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, ভারতীয় কাস্টমস, বন্দর ও সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের জন্য বৈঠক করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি বছর ভারতের সঙ্গে ৩০ হজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে এ বন্দর দিয়ে। যদিও চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ হাজার কোটি টাকা। বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে বেনাপোল কাস্টমস হাউস। ইতিপূর্বে দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো ভারতে থেকে। বর্তমানে তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাকে। ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পণ্যবোঝাই ট্রাক থেকে প্রতিদিন ২ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে ৩০ থেকে ৩৫ দিন সময় লাগছে। ওপারে আটকে থাকলে তাকে ৬০ হাজার রুপি পরিশোধ করতে হচ্ছে। চাঁদার পুরো টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। আমদানিকারকরা মোটা অঙ্কের আর্থিক লোকসানে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র জানান, কালিতলা পার্কিংয়ে দীর্ঘদিন পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে থাকায় মোটা অঙ্কের ড্যামারেজ গুনতে হচ্ছে ওপারের আমদানিকারকদের এটা সত্য। সিরিয়ালের নামে এসব ট্রাক কালিতলা পার্কিংয়ে ঢোকানো হচ্ছে বনগাঁও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে। আমরা চাই পেট্রাপোল বন্দরের তত্ত্বাবধানে সিরিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং দ্রুত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। বেনাপোল কাস্টম ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, পণ্য আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক আমদানিকারক এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, ভারতীয় পেট্রাপোল কালিতলা পার্কিংয়ে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে আছে। ফলে রাজস্ব আয় অনেক কমে গেছে। কালিতলা পার্কিং থেকে একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে সময় লাগছে ৩০ থেকে ৩৫ দিন। রাজস্ব আয় বাড়াতে ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল করতে ভারতীয় কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর