কানাডার ক্যালগেরিতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পার্টির জাতীয় কনভেনশনে কানাডার প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিভিয়ে দলের নেতৃত্বের পরীক্ষায় বড় জয় পেয়েছেন।
পিয়েরে পলিভিয়ে মোট ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ ডেলিগেটের ভোট পেয়ে নেতা হিসেবে বহাল রয়েছেন। গত বছরের এপ্রিলের নির্বাচনে হারের পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই ভোট বাধ্যতামূলক ছিল। ৮৭ শতাংশের ওপর সমর্থন পাওয়ার অর্থ হলো- তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এখনও তার ‘কানাডা ফার্স্ট’ এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের নীতির ওপর অবিচল।
দলীয় সূত্র জানায়, এই ভোটে টিকে থাকতে ডেলিগেটদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের প্রয়োজন ছিল পলিভিয়েরের যা তিনি পেয়েছেন।
ক্যালগেরি পলিভিয়েরের নিজ শহর হওয়ায় স্থান নির্বাচনও তার পক্ষে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে অন্টারিও প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভদের কনভেনশন একই সময়ে হওয়ায় কেন্দ্রীয় অন্টারিও থেকে ডেলিগেট উপস্থিতি কম হতে পারে- এমন আশঙ্কাও ছিল।
ভোটের আগে দেওয়া ভাষণে পলিভিয়ের ‘আশা’ (Hope) থিম নিয়ে কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বিভক্ত একটি ঘর কখনো টিকে থাকতে পারে না।
তিনি বিশেষভাবে আলবার্টা ও কুইবেকের তরুণদের হতাশার বিষয়টি তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন- কেন এই প্রজন্মের অনেকে কনফেডারেশনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে? তার প্রায় এক ঘণ্টার ভাষণে স্পষ্ট ছিল, দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের দায় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নীতির ওপর চাপিয়েছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে কনজারভেটিভ পার্টি অফ কানাডার ভেতরে নিজের কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করলেন পলিভিয়ের। বিশেষ করে গত বসন্তে দলটির বড় ধরনের নির্বাচনী পরাজয়ের পর অনেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে লিবারেলদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এক জরিপে লিবারেলদের সমর্থন ৪৭ শতাংশ, কনজারভেটিভদের ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পলিভিয়েরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
উল্লেখ্য পলিভিয়ের গত বছরের ফেডারেল নির্বাচনে নিজ আসনে জয়ী হতে না পেরে নিরাপদ একটি রাইডিং থেকে সংসদে ফিরতে হয় তাকে। এরপর একাধিক এমপি দল ছাড়ায় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
তবে পলিভিয়ের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যুতে তিনি এখনো সাধারণ মানুষের কাছে শক্ত বার্তাবাহক।
দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, দলের ভেতরের মতপার্থক্য ও আঞ্চলিক অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও, আপাতত কনজারভেটিভদের নেতৃত্বে পিয়েরে পলিভিয়েরই শেষ কথা।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া