মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের দাতারান মারদেকায় (স্বাধীনতা চত্বর) বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোস্তাকিম জনির ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা ইফতার মাহফিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দেশটির স্বাধীনতা ঘোষণার সাক্ষী এই ঐতিহাসিক চত্বরে প্রতিবছর রমজানে ইফতারের আগমুহূর্তে স্থানীয় এবং বিদেশিদের হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে খোলা ময়দানে বসে ইফতার করা বলা চলে অনেকটা পুরোনো রেওয়াজ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেমনি একটি মুহূর্তে সমবেত হওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জনি। তার লেন্সের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিওটি অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। ধারণ করা ভিডিওটি জনি প্রথমে তার টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন এবং প্রকাশ হওয়ার পরপরই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি স্থানীয় নাগরিকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
ভিডিওটি মালয়েশিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ফেডারেল টেরিটরি প্রশাসন এবং কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করেছে, যা এখন পুরো নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।
সরকারি এই পেজগুলো তাদের ক্যাপশনে ভিডিওর ক্রেডিট হিসেবে মোস্তাকিম জনির নাম উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি দাতারান মারদেকার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।
জনির ড্রোন ফুটেজটিতে স্বাধীনতা চত্বরের বিশালতা এবং সেখানে আগত মানুষের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্রটি স্থানীয়দের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভিডিওটি দেখে মুগ্ধ হয়ে অসংখ্য মালয়েশীয় নাগরিক ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। যার ফলে অনেকেই এখন ঐতিহাসিক স্থানটিতে ইফতারের পরিকল্পনা করছেন।
নিজের কাজের এমন স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত মোস্তাকিম জনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মালয়েশিয়ার সরকারি পেজগুলোতে আমার কাজ শেয়ার হওয়া এবং স্থানীয়দের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে বিদেশের মাটিতে এমন সম্মান অর্জন করতে পারা দেশ ও নিজের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে দাতারান মারদেকা মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় এই ভিডিওটি দেশটির পর্যটন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রচারেও ভূমিকা রাখছে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি