শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:০৪

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের অনন্য সাফল্য

জিতলেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনক দ্য আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্স অ্যাওয়ার্ড

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের অনন্য সাফল্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে কর্মরত বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় অর্থনীতি এবং জাতির জ্বালানি নিরাপত্তা এগিয়ে নেওয়ার মিশনে গবেষণা ও উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম জাহিদ হাসানকে ‘দ্য আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্স’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হলো। জ্বালানি মন্ত্রী ড্যান ব্রাউইলেট ১২ জানুয়ারি এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও সাতজনকে এই পুরস্কার প্রদানের কথা জানানো হয়েছে। ভার্চুয়ালে এ পুরস্কার বিতরণ করা হবে ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায়। মধ্য-ক্যারিয়ারের আমেরিকান বিজ্ঞানী হিসেবে কয়েক বছর আগে ‘ওয়েল সেমিমেটাল’ আবিষ্কারের জন্য ড. হাসান সম্মাননা লাভ করেন। কোয়ান্টাম ফিজিক্সে টপোলজি বিষয়ে বিশেষভাবে পারদর্শী নিউজার্সির প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ড. হাসান আবিষ্কার ও গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল সরকারের এই মর্যাদাসম্পন্ন অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হওয়ার সংবাদ জানার পর ১৪ জানুয়ারি অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি এই সম্মাননা অর্জন করতে পেরে সম্মানিত এবং গৌরব বোধ করছি। কারণ, ই ও লরেন্স হচ্ছেন আমার অন্যতম একজন শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞানী, যাঁকে আমার হিরো হিসেবে বিবেচনা করি।’ হাসান বলেন, ‘লরেন্সের সাইক্লোট্রন উদ্ভাবনের ফলে আধুনিক উচ্চশক্তিসম্পন্ন প্রযুক্তি সম্মুখে ধাবিত- যা আমি আমার গবেষণায় কোয়ান্টাম পদার্থের টপোলজিক্যাল অবস্থাগুলো অনুসন্ধান করতে ব্যবহার করি। লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং এসএলএসি ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ল্যাবরেটরির কাছেও আমার এই কৃতিত্বের জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ শীর্ষস্থানীয় কণা ত্বরক সাইক্লোট্রন উদ্ভাবনকারী এবং পদার্থবিদ্যায় ১৯৩৯ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্সকে সম্মান জানানোর জন্য ১৯৫৯ সালে এই অ্যাওয়ার্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লরেন্সও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে অবদান রেখেছিলেন এবং দেশের জাতীয় রসায়নাগার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আরও উল্লেখ্য, ‘উন্নত স্পিন-এঙ্গেল-সলিউড ফটোয়িমেশন স্পেকট্রোস্কোপি’ ব্যবহারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ফলে হাসানকে বস্তুবিজ্ঞানের নতুন পর্যায় এবং নতুন ফর্মিওনিক কোয়াসি পার্টিক্যালগুলোর অন্তিম আবিষ্কারের জন্য ইতিপূর্বে সম্মানিত করা হয়েছিল।’

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এই পুরস্কারের ঘোষণা অনুসারে, ‘হাসানের কাজ ঘনীভূত পদার্থবিজ্ঞানের নতুন ক্ষেত্র খুলেছে এবং পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রূপান্তরকারী প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। অ্যাব ডিগ্রি ও গণনার পূর্বাভাস অনুসারে তিনি নতুন কোয়ান্টামের অবস্থা এবং হেলিকাল ডাওয়ার্ক ফার্মিয়ন এবং ওয়েল ফার্মিয়েনের মতো টপোলজিক্যাল কোয়াসি পার্টিকেলগুলোর সন্ধান এবং আবিষ্কারের দিকে মনোনিবেশ করেছেন।’ প্রতিটি লরেন্স পুরস্কার বিজয়ী জ্বালানিমন্ত্রীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি প্রশংসাপত্র, আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্সের অনুরূপ স্বর্ণপদক এবং নগদ ২০ হাজার ডলার পাবেন। এর আগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন ১৯৬৮ সালে ভ্যাল ফিচ (১৯২৩-২০১৫), যিনি জেমস এস ম্যাকডনেল পদার্থবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক, ইমেরিটাস; এবং ১৯৭৬ সালে জেমস ক্রোনিন (১৯৩১-২০১৬), যিনি ১৯৫৮-১৭১৭১১ সালে প্রিন্সটনের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। দুজন পদার্থবিজ্ঞানীর জন্য ১৯৮০-এর নোবেল পুরস্কারও ভাগ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশি জাহিদ হাসান তাপস ১৯৭০ সালের ২২ মে ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে এইচএসসি পাস করেন। এরপর গণিতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। চার দিন ক্লাস করার পর আর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি বলে জানান। ওই বছরই স্কলারশিপ নিয়ে চলে যান আমেরিকা। অস্টিনের টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন পদার্থবিজ্ঞানে। সুযোগ হয় নোবেল বিজয়ী তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন ভাইনভার্গের কাছে শিক্ষা গ্রহণের। এরপর মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে চলে যান স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০২ সালে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট করেছেন। আমেরিকান একাডেমি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের নির্বাচিত ফেলো হাসান ২০১৪ সাল থেকেই ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘অ্যাসপেন ইনস্টিটিউট’রও ফেলো। হাসানের গবেষণা এবং উদ্ভাবন সম্পর্কিত অনেক লেখা বিশ্বখ্যাত  জার্নালে প্রকাশ হয়েছে।


আপনার মন্তব্য