Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৫
অদ্ভুত যত গিনেস রেকর্ড
আবদুল কাদের
অদ্ভুত যত গিনেস রেকর্ড

সবচেয়ে বড় হট ডগ কার্ট

আমেরিকান মার্কাস ডেইলি একটি হট ডগের কার্ট বানিয়েছেন তাও আবার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। এর আগে কখনো এত বড় ফুড কার্ট দেখা যায়নি।

  বিশাল কার্টটির উচ্চতা ৩.৭২ মিটার (১২ ফিট ২.৭৫ ইঞ্চি), প্রস্থ ২.৮১ মিটার (৯ ফিট ৩ ইঞ্চি) এবং দৈর্ঘ্য ৭.০৬ মিটার (২৩ ফিট ২ ইঞ্চি)। কার্টটি মার্কাস রেকর্ড ভাঙার জন্য নয়, বরং পারিবারিক ব্যবসায়ের জন্য তৈরি করেছিলেন। মোবাইল কার্টটি বর্তমানে আমেরিকার মিসৌরি শহরে রয়েছে। ভবিষ্যতে মার্কাস কার্টটিকে নিয়ে নিজ শহরে স্থায়ী রেস্টুরেন্ট করতে চান।

 

দ্রুত গতির কচ্ছপ

সবচেয়ে কম গতির প্রাণী বলা হয় কচ্ছপকে। কিন্তু বার্টি নামের কচ্ছপদের ‘উসাইন বোল্ট’ ডাকা যেতেই পারে! কেননা, ইংল্যান্ডে কাউন্টি ডারহ্যামের অ্যাডভেঞ্চার ভ্যালিতে মাত্র ১৯.৫৯ সেকেন্ডে ১৮ ফিট দৌড়ে কচ্ছপদের স্প্রিন্টে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। বার্টি ‘লেপার্ড টরটয়েজ’ গোত্রের কচ্ছপ এবং বাঁচে ৮০ থেকে ১০০ বছর। এর আগে কচ্ছপদের ১৮ ফিট স্প্রিন্টে বিশ্বরেকর্ড ছিল ৪৩.৭ সেকেন্ড, যা ১৯৭৭ সাল থেকে কেউ ভাঙতে পারেনি।

 

দীর্ঘ সময় অটো কাত করে চলা

জগদীশ ভারতের চেন্নাইয়ের তামিল নাড়ুর টুক টুক অটো ড্রাইভার। সারাদিন অটো নিয়েই যার চলাফেরা। মানুষকে সময় মতো নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই কাজ। কিন্তু রাত হলেই জগদীশ অটো নিয়ে বিপজ্জনক সব অনুশীলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জগদীশ গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকের ‘আব ইন্ডিয়া তোরেগা’ নামের ‘রিয়েলিটি শো’তে হাজির হয়েছিলেন। জগদীশ মুম্বাইয়ের জুহুর বিমান ঘাঁটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি সময় অটো কাত করে চলার রেকর্ডও গড়েন। ‘রিয়েলিটি শো’-এর শর্ত ছিল, দুই চাকার অটো কাত করে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা। ২৭ বছরের জগদীশ সেই লক্ষ্য ভেদ করে ২.২ কিলোমিটার পথ অটো কাত করে রিয়েলিটি শো’তে তাক লাগিয়ে দেন। সে সময় তার অটো রিকশার বেগ ছিল প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ভিডিও ফুটেজটি গিনেস বুকের অতীতের ভয়ঙ্কর চালকের রেকর্ড ভেঙে ২০১৬ সালের নতুন রেকর্ড বুকে নাম লেখান।

 

পরপর ৩৬ সিঁড়ি আরোহণ

ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা, তাও আবার মাথা দিয়ে! চীনের জিয়ানসু প্রদেশের জিয়াগিং শহরে ২০১৫ সালে অদ্ভুত এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন চীনের নাগরিক লি লং লং। অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচার করেছিল চীনের টেলিভিশন সিসিটিভি। ভিডিওটিতে দেখা যায় লি মাথায় ভর করে নিচ থেকে ধারাবাহিকভাবে ৩৬ সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠেন। লি তার আগের রেকর্ড (৩৪টি সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা) ভেঙে ২০১৬ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নতুন করে নাম লেখান।

 

সর্বাধিক আঙ্গুলের মালিক

মানুষ বড় বৈচিত্র্যময়। আর সে বৈচিত্র্য অনেক সময় খ্যাতিও বয়ে আনে। যেমনটি ঘটেছে ভারতের দেবেন্দ্র সাথারের জীবনে। দেবেন্দ্র জন্মগতভাবেই বেশি আঙ্গুলের অধিকারী। তার হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙ্গুল। পৃথিবীতে দেবেন্দ্রই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সর্বাধিক আঙ্গুলের মালিক। আর এই প্রতিবন্ধকতাও তাকে এনে দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে রেকর্ডের হাতছানি। ২০১৬ সালে গুজরাটের হিমান্তনগরের এক ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করেন। সে থেকে গিনেস বুকে তার নাম উঠতে খুব বেগ পেতে হয়নি। এতগুলো আঙ্গুল থাকা সত্ত্বেও কাজে কোনো বাধা হচ্ছে না বলেও জানান দেবেন্দ্র।

 

ঊরু দিয়ে তরমুজ ভাঙা

অল্পের জন্য সাফল্যের ঝুড়িতে যোগ হয়নি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালীর নারীর খেতাব। তাতে কী! রেকর্ড গড়েছেন কম সময়ে সবচেয়ে বেশি তরমুজ ভাঙার রেকর্ড। মাত্র ১৪.৬৫ সেকেন্ডে ওলগা লিয়াশচুক ভেঙেছেন আস্ত তিনটি তরমুজ। ইতালির মিলান শহরের মেডিয়েস্ট স্টুডিওসে ইউক্রেনের শক্তিশালী এই নারী রেকর্ডটি গড়েন। এর আগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকের এক প্রতিযোগিতায় অল্পের জন্য শক্তিশালী নারীর খেতাব অর্জন করতে পারেননি। সে সময় ওলগা লিয়াশচুক ৯টি তরমুজ ভাঙতে পেরেছিলেন।

 

ক্রাচে করে ১০০ মিটার

ইচ্ছাশক্তির কাছে প্রতিবন্ধকতাও হার মানে কথাটি একেবারেই মিথ্যে নয়। জন্ম থেকে তামেরু জেগেই  প্রতিবন্ধী, তবে স্ক্রাচে ভর করেই করেছেন বিশ্বরেকর্ড। স্ক্রাচে ভর করে ৫৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার পথ অতিক্রম করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগান এই প্রতিবন্ধী। পেশায় সার্কাস অভিনেতা তামেরুর জন্ম জার্মানিতে। জন্ম থেকেই তামেরু পা ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু স্বপ্ন পূরণে ছেলেবেলা থেকেই পায়ের পরিবর্তে হাতের ব্যবহার শিখেছেন। আর  ২০১৬ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নাম লেখান এই প্রতিবন্ধী।

 

সবচেয়ে লম্বা দম্পতি

সবচেয়ে লম্বা পুরুষ এবং সবচেয়ে লম্বা নারীর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দেখা গেছে অনেক আগেই। এবার গিনেস রেকর্ডে জায়গা পেল বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দম্পতির রেকর্ড।   চীনের সান মিং ও জু ইয়ান দম্পতির একত্রে উচ্চতা ১৩ ফিট ১০.৭২ ইঞ্চি (৪২৩.৪৭ সেন্টিমিটার)। এর মধ্যে ৩৩ বছর বয়সী সানের উচ্চতা ৭৮.৯৮ ইঞ্চি (২৩৪.১৭ সেন্টিমিটার) এবং তার স্ত্রী, ২৯ বছর বয়সী জু ইয়ানের উচ্চতা ৬১.৭৪ ইঞ্চি (১৮৭.৩ সেন্টিমিটার)। সান হলেন বাস্কেটবল প্লেয়ার এবং জু ইয়ান হ্যান্ডবল প্লেয়ার। ২০০৯ সালে ন্যাশনাল গেমসে পরিচয় হওয়ার পর ২০১৩ সালে প্রেমপর্বের ইতি ঘটিয়ে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

সবচেয়ে লম্বা পশম

ছবিতে দেখা সাদা পশমের বস্তুটিকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি খরগোশ। খরগোশটির মালিক ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রানচেসা। তার পোষা খরগোশটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পশমের গিনেস রেকর্ড গড়ে। ফ্রানচেসা মূলত অ্যাংকর জাতের পশমি খরগোশ পালন করে। এর আগে খরগোশটির জন্য ফ্রানচেসা ক্যালিফোর্নিয়ার মর্গান হিলে বেটি চ্যু পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট খরগোশটির পশম মাপার পর ২০১৬ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে সবচেয়ে লম্বা পশমের জন্য ফ্রানচেসাকে গিনেস সনদ দেওয়া হয়। খরগোশটির পশম ১৪.৩৭ ইঞ্চি লম্বা অর্থাৎ একটি ১২ ইঞ্চি স্কেলের চেয়েও লম্বা।

 

সবচেয়ে লম্বা পা-ওয়ালা

জেইসন অরল্যান্ডো রডরিগেজ হার্নান্দেজ। নামটা যেমন বিশাল। তেমনি বিশাল তার পা। আর তাই হয়তো গিনেস বুকে পেয়ে গেল বিশাল পা-ওয়ালা মানুষের মর্যাদা। ২০ বছর বয়সী জেইসনের পায়ের মাপ এক ফুট ৪ ইঞ্চি। আর তাতেই তার যত বিপদ। মুচিকে দিয়ে বানিয়ে নিতে হয় ২৬ সাইজের জুতা। ভেনিজুয়েলার এই তরুণ পৃথিবীর দীর্ঘতম পা-ওয়ালা বলে খ্যাতি পেয়েছেন ২০১৬ সালের গিনেস রেকর্ডস বইয়ে। ১৪ বছর বয়স থেকেই তার এই পরিবর্তন। জেইসনের উচ্চতা ৭ ফিট ২.৬ ইঞ্চি।

 

কম সময়ে বার্গার সাবাড়

মাত্র ৩ মিনিটে ১২টি হ্যামবার্গার সাবাড় করা চাট্টিখানি কথা নয়! এমনই এক খাদকের দেখা পেয়েছে জাপান। আর এই বিরল রেকর্ডটি দখল করে নেন তেকেরু কুবেইশি। আর সাবাড় করা প্রতিটি হ্যামবার্গারের ওজন ছিল ৫০ গ্রাম। তবে কুবেইশি প্রতিটি বার্গারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য সঙ্গে মায়োনিসও বেছে নেন।

 

১ মিনিটে ১৪ গোল বধ!

গোলকিপারের ভূমিকায় কুকুর! অবাক হওয়ার কিছু নেই। পুরিন নামের এই কুকুরটি ২০১৬ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম লেখায়। পুরিন তার মালিকের সঙ্গে জাপানের টোকিও শহরের মাকোতো কুমাগাই এলাকায় বসবাস করে। মাত্র ১ মিনিটে ১৪টি গোল আটকাতে সক্ষম হয়েছিল পুরিন। সেই থেকে সবচেয়ে বেশি গোল বধের রেকর্ডটিও পুরিনের ঝুলিতে।

 

দ্রুত ডিরেক্টরি ছেঁড়া

মাত্র ১ মিনিটে সবচেয়ে বেশি টেলিফোন ডিরেক্টরি ছিঁড়ে গিনেস বুকে নাম লেখান আমেরিকান সুন্দরী লিনসে লিন্ডবার্গ। রেকর্ড গড়া অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ২০১৪ সালের নভেম্বরে আমেরিকার টেক্সাসের অস্টিনের সেন্ট্রাল মার্কেটে। দ্রুত সময়ে ১ হাজার পাতার ৫টি টেলিফোন ডিরেক্টরি ছেঁড়েন এই সুন্দরী। এর আগে লিনসে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যোগ করেছিলেন বাহুতে আপেল রেখে ভাঙা ও কম সময়ে ফ্রাইপেন বাঁকা করার রেকর্ডও।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow