Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:১২
আপডেট : ৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:১৬

পিঁয়াজ আমদানিকারকদের পকেটে ১৫৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

পিঁয়াজ আমদানিকারকদের পকেটে ১৫৯ কোটি টাকা

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ৩০ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। প্রতি কেজি পিঁয়াজ ক্রয় করা হয় ৪২ টাকায় এবং বিক্রি করা হয় ৯৫ টাকায়। এর মধ্যে প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত নেয়া হয়েছে ৫৩ টাকা। কেবল আমদানিকারকরাই এভাবে নিয়ে যাচ্ছে ১৫৯ কোটি টাকা। এরপর খুচরা বাজারে আসতে আসতে এ অংক দাঁড়ায় প্রায় ২১০ কোটি টাকা।    

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনের  সঙ্গে পিঁয়াজ ব্যবসায়ীদের বৈঠকে এভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।   

তবে অভিযান, জরিমানাসহ নানা উদ্যোগের পরও পিঁয়াজ ব্যবসায়ীরা আগামী দুই তিনদিন পর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ১০০ টাকা করে বিক্রি করার ঘোষণা দেন। সভায় সার্বিক বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য একটি তদারক সেল গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ইয়াসমিন পারভিন তিবরীজি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. সেলিম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ পরিচালক শাহিদা সুলতানা, খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ খান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী প্রমুখ।   

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ইয়াসমিন পারভিন তিবরীজি বলেন, ‘কমিটি গঠন করে মনিটর করা হবে- কত দামে কিনছেন আর কত দামে বিক্রি করছেন। আড়তে থাকা বেশি দামের যে পিঁয়াজ আগামীকাল বুধবারের মধ্যে বিক্রি শেষ করবেন। এর পরদিন থেকে কত দামে কেনা হচ্ছে তা মনিটরিং করা হবে। সরাসরি তদারকি করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকজ। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেই অভিযান।’         

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্য খুচরা বাজারে ১০০ টাকার নিচে আনতে যা যা করা দরকার খাতুনগঞ্জের  ব্যবসায়ীরা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মিশর থেকে আনা হচ্ছে পিঁয়াজ। ৫০ হাজার টন আনছে এস আলম গ্রুপ, ৯ হাজার টন আনছে মেঘনা গ্রুপ। শীঘ্রই শুরু হবে পিঁয়াজের মৌসুম। ফলে আর সংকট থাকবে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে পিঁয়াজের দাম ৪০ টাকার মধ্যে নেমে আসবে।’

ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির ২০০ কোটি টাকার বেশি কার পকেটে গেল? এই টাকা তো সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকে চলে গেল। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’   

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আগামী দুই একদিনের মধ্যে খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৮০-৮৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে কেজি প্রতি ১০০ টাকা বিক্রি করা হবে। ক্রেতা যাতে ১০০ টাকার মধ্যে পিঁয়াজ কিনতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। আমদানিকৃত পিঁয়াজ দেশে আসলে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে।’

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য