শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১২

এবার অশনিসংকেত চিনিকলে

বন্ধ ঘোষণা হতে পারে যে কোনো সময়ে ♦ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

এবার অশনিসংকেত চিনিকলে

টানা লোকসানের মুখে দেশের চিনিকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে সব চিনিকলে চিঠি পাঠিয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, লাভ-লোকসান ও শ্রমিক-কর্মচারীদের দেনা-পাওনার হিসাব চেয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন। এতে চাকরি হারানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছে শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের সরকারি চিনিকলগুলো বছরের পর বছর শুধু লোকসান দিচ্ছে। চিনি বিক্রি করে লাভের আশাও আপাতত নেই। বর্তমানে ১৫টি সরকারি চিনিকলে লোকসানের পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তাই, লোকসানের দায় এড়াতে চিনিকলগুলো বন্ধের কথা ভাবা হচ্ছে। গেল ১০ সেপ্টেম্বর এক অফিস আদেশে, দেশের সব চিনিকলের ১১টি বিষয়ের হিসাব চেয়েছে খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন। ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য করপোরেশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, অন্তত তিন মাস ধরে বেতন নেই চিনিকলগুলোতে। ২০১৫ সালের মজুরি কাঠামো অনুযায়ী তাদের এরিয়া বিল বকেয়া পড়েছে কয়েক কোটি টাকা। এখন মিল বন্ধের আশঙ্কা ভাবিয়ে তুলেছে শ্রমিক-কর্মচারীদের। রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনতাজ আলী জানান, চিনিকলগুলো বন্ধের ইঙ্গিত পেয়েই সারা দেশের শ্রমিক-কর্মচারী নেতারা ঢাকায় বৈঠক করেছেন চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে। ওই বৈঠকেও মিল বন্ধেরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে শ্রমিক ও কর্মচারীরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চিফ অব পার্সোনেল রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিনিকলগুলো এখনো বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সেদিকে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। বিজেএমসির পাটকলগুলোর মতো গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে গেলে কী পরিমাণ বাজেট প্রয়োজন হতে পারে, তা জানতেই তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছে। সরকার যে কোনো সময় এসব তথ্য আমাদের কাছে চাইতে পারে বলে ধারণা করছি।’ তবে রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহা. আবদুস সেলিম জানান, তারা চিঠিতে চাওয়া তথ্যগুলো পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা আছে। ওই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, ট্যারিফ কমিশনের এক সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ হয় ৮৮ টাকা। আর তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর