শিরোনাম
সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ শিশু রোগী

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ

হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ শিশু রোগী

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঠান্ডায় কাঁপছে হবিগঞ্জ শহরসহ আশপাশের উপজেলা। এক সপ্তাহ ধরে দেখা মিলছে না রোদের। শীত বাড়ায় দিন দিন জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডার রোগী। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও বৃদ্ধ। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্স-ডাক্তারদের। শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ তাদের। জানা যায়, ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে শিশুদের জন্য ৫০টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে শতাধিক শিশু রোগী রয়েছে। এর বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক শিশু। অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। সবশেষ গতকাল বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৩৫ শিশু। এ ছাড়া শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক বয়স্ক নারী-পুরুষ ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সরেজমিন দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শয্যা থেকে শুরু করে মেঝেতে কাপড় দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। দায়িত্বরত নার্সরা জানান, শিশুদের মধ্যে অধিকাংশ জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, শাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ওয়ার্ডের শয্যার চেয়ে অধিক সংখ্যক রোগী থাকায় আমাদের যেমন চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তেমনি রোগীদেরও কষ্ট হচ্ছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রহিমা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা জানান, আমার নাতনিকে ঠান্ডার রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তাকে দেখতেই এসেছি আমি। রোজিনা আক্তার নামে একজন জানান, আমার নবজাতক সন্তান ঠান্ডায় আক্রান্ত। ডাক্তার তাকে ভর্তি দিয়েছেন। আরেক অভিভাবক মরিয়ম আক্তার বলেন, আমার বাচ্চার জ্বর থাকায় হাসপাতালে এনেছি। মেঝেতেই তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শাহেদা খাতুন নামে এক নারী জানান, শিশু ওয়ার্ডে অনেক রোগী। সময়মতো ডাক্তার নার্স পাওয়া যায় না। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, এক সপ্তাহ ধরে প্রচন্ড শীত পড়ছে। এ কারণে শিশু-বৃদ্ধরা ঠান্ডা রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এই ঠান্ডায় শিশুদের প্রতি আলাদাভাবে অভিভাবকদের যত্নশীল হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। 

সর্বশেষ খবর