প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স নেই, শয্যাসংকট, যন্ত্রপাতি বিকল, পরিছন্নতাকর্মী নেই। এত সব নেই আর নেই-এর মধ্যেও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর জেলা হাসপাতালে রোগীদের ঠাঁই নেই অবস্থা। হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় থেকে নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন জেলার বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলা, এর সঙ্গে কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এবং জামালপুর জেলার একাংশ মিলিয়ে অন্তত ২২ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর জেলা হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য চাহিদা অনুযায়ী জনবল তো পাওয়াই যায়নি; উপরন্তু ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ লোকবলও নেই। ২৫০ শয্যার অনুপাতে বিছানা নেই, খাবার ও ওষুধ দেওয়া হয় ১০০ জনের অনুপাতে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নেই, যন্ত্রপাতি বিকল, পরিছন্নতা কর্মী নেই। এত নেই নেই-এর মধ্যে রয়েছে দালাল, চোর, ছিনতাইকারী, মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। লোকবলসহ নানা সংকট, রোগীর চাপ ও দুর্বৃত্তদের আধিপত্যে এ সেবাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলছেন ভুক্তভোগীরা। সেবাকেন্দ্রটিতে লোকবলের অভাবে আইসিইউর সেবা পাওয়া যায় না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০ পদের সবই শূন্য। সহকারী সার্জন ২৮ পদের বিপরীতে ২৩টিই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট ১৩টির মধ্যে আটটি শূন্য, অ্যানেসথেটিস্ট তিনটি পদের সবই শূন্য, রেডিওলজিস্ট পদের মধ্যে দুটিই শূন্য, আটটি ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে আছেন দুজন, সহকারী রেজিস্ট্রার নয়টি পদের তিনটি শূন্য, একজন প্যাথলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও পদটি শূন্য। ১২০ জন নার্স চাহিদার বিপরীতে আছেন ৮৭ জন। হাসপাতালে তিনটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভার না থাকায় এ সেবাও বন্ধ। নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী একজনও নেই। আউট সোর্সিং পাঁচ কর্মী দিয়ে কোনো রকম পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু থাকে। অভিযোগ, জনবল যুক্ত না করেই তড়িঘড়ি করে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। ৯ তলার বিশাল বিল্ডিংয়ে রোগী, রোগীর স্বজন, হাসপাতালে কর্মী মিলিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের জন্য দুটি ছোট লিফট।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিয়া বলেন, জনবলের চরমসংকট ও দুষ্কৃতকারীদের উপদ্রবের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।