গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। নদীভাঙনের শিকার একটি বড় অংশ উপজেলার বিভিন্ন চরে বসবাস করে। যাদের প্রত্যেকের বসতভিটা পাঁচ থেকে সাতবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার ভাঙনের মুখে পড়েছে সুন্দরগঞ্জের হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুধু কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন হুমকিতে পড়েছে শতাধিক একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা জানান, জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতি বছর গড়ে ৪৫০ বসতভিটা, ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান তিস্তায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাঁচ বছরে আড়াই হাজার বসতভিটা, ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট, ৩০টি ধর্মীয় ও ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আরও জানান, উজানের পলি জমে ভরে যাওয়ায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সে কারণে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রূপ নিয়েছে। নদীভাঙন দেখা দিয়েছে অসময়ে। কখন বসতভিটা নদীতে বিলীন হয় তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে চরবাসী। এসব চরের প্রতিটি মানুষের বসতভিটা পাঁচ থেকে সাতবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে সারা বছরই নদীভাঙন চলে। বর্তমানে উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন হুমকিতে পড়েছে কাপাসিয়ার ভোরের পাখি চরের উঠতি ফসলি জমি ও ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর গ্রামের জারিফুল মিয়া বলেন, উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রোধ হচ্ছে না। হরিপুরের কাশিম বাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ ব ম আবদুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, অসময়ে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে চরবাসী। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট দূর হবে না। কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর নদীভাঙন চলছে। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ করার দাবি জানান তিনি। কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, পানি কমলে উজানে আর পানি বাড়লে ভাটিতে ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে উজানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড নদীর চরে।
কাপাসিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। নদী খনন ও ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ একমুখী করলে ভাঙন কমে যাবে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় জোন। ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, কুমড়া, তরমুজ, আলু, মরিচ, পিঁয়াজসহ নানা রকম ফসল চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে তিস্তার বালুচর। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করলে চরের কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, প্রতি বছর নদীভাঙনে প্রায় ৪০০ বসতভিটা এবং ৩০০ হেক্টর জমি, রাস্তাঘাট, প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে থাকে। ভাঙনের সব তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।