কুড়িগ্রাম জেলায় ছোট-বড় ১৬টি নদনদী রয়েছে। এসব নদনদীতে রয়েছে ছোট-বড় সাড়ে ৪ শতাধিক চর ও দ্বীপচর। এর আড়াই শ চরেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। এ জেলায় শিক্ষার মান আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে নদীচরের শিশুরা। বঞ্চিত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকেও। সচেতন মহল বলছে, এসব চরে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠেনি বলেই অনেক শিশুর পড়াশোনা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারে জেগে ওঠা সাড়ে ৪ শতাধিক চরের মধ্যে আড়াই শ চরেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। নেই শিশুদের শেখার ন্যূনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব চরের শিশুদের পক্ষে নদী পাড়ি দিয়ে পাশের চরে যাওয়াও বেশ কষ্টসাধ্য। তাছাড়া ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো অনেক কঠিন। ফলে শিশুদের পড়াশোনায় তেমন আগ্রহ দেখান না অভিভাবকরা। এ কারণে এসব চরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে না। শত শত শিশু প্রাথমিক শিক্ষারও বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, ছোট থেকেই চরের অনেক শিশু জীবিকার প্রয়োজনে লেখাপড়া না করেই বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়। কেউ কেউ শহরে বিভিন্ন দোকানপাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে যুক্ত হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চর কালির আলগায় বসবাস করা প্রায় ৪শ পরিবারের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুধু কালির আলগা নয়, একই চিত্র জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রে জেগে ওঠা বালাডোবা, মুসারচর, আটাশির চর, মাঝিয়ালির চর, মসলার চরসহ ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের বেশির ভাগ চরে। স্বাধীনতার পর থেকে এ নদীভাঙনের কারণে চর পরিবর্তনও হয়েছে। এক চর গেছে আরেক জায়গায়। একদিকে ভাঙে আর একদিকে গড়ে। ফলে এ অবস্থা চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। স্থানীয়রা জানান, এসব চরের হাতে গোনা দু-একজন বাসিন্দা শিশু সন্তানদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে রেখে লেখাপড়া শেখান। কিন্তু বাকি শিশুদের ভাগ্যে জুটছে না প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগটুকুও। সদর উপজেলার কালির আলগা চরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বছর আগে জেগে ওঠা এ চরে এখন প্রায় ৪শ পরিবার বসবাস করছে। কিন্তু এই চরে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দূরবর্তী চরে বা উঁচু এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া কষ্টকর। ফলে এই চরে সাড়ে ৪ শতাধিক শিশু শিক্ষা ছাড়াই বড় হয়ে উঠছে। হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ আবুল হোসেন জানান, এখানে পাঁচটি চরের অন্তত ছয় শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষাও নিতে পারছে না। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে চরগুলোর অধিকাংশই শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে। সরকারের নতুন আন্তভিলেজ প্রোগ্রামে চরগুলোতে প্রাইমারি স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে। নীতিমালার মধ্যে হলেই তা সম্ভব হবে।
শিরোনাম
- ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ শুরু, শেষ ১৬-র টিকিট কাটবে কে
- বৈষম্যহীন ও দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য : মাহদী আমিন
- ক্যান্সার জয় করা কেট মিডলটনের ২৪ ঘণ্টায় তিন পাহাড় জয়
- নোয়াখালীতে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
- লিসা কুক ইস্যুতে ট্রাম্পের পরাজয়, তবে বেড়েছে প্রশাসনিক ক্ষমতা
- শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার ওপর জোর গভর্নরের
- শাবির সমাজকর্ম বিভাগের সাথে কারিতাসের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত
- সুপ্রিম কোর্টে হেরে গেলেন ট্রাম্প, নারী সাংবাদিককে দিতে হবে ৫ মিলিয়ন ডলার
- রামু থেকে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার
- জিম্বাবুয়ের ২৭০ রানের লিড, তাইজুল পেলেন ৭ উইকেট
- ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার যুবক
- মা-তিন মেয়ে হত্যাকাণ্ড; রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ, ধোঁয়াশা কাটেনি
- তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে যা বলল চীন
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ
- স্কুলছাত্র ইথানকে গুলির ঘটনায় আরও ৩ জন গ্রেফতার
- অর্থবিল ২০২৬ সংসদে পাস
- কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্প্রসারণে সরকার বদ্ধপরিকর : ডেপুটি স্পিকার
- নানা কর্মসূচিতে যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- কাঁচাবাজার-ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের বাইরে থাকবে : অর্থমন্ত্রী
শিক্ষাবঞ্চিত চরের শিশুরা
খন্দকার একরামুল হক সম্রাট, কুড়িগ্রাম
প্রিন্ট ভার্সন
টপিক
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর