Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:০৮

যৌতুকের বলি মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

যৌতুকের বলি মুক্তি
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীর বাগমারায় যৌতুকের বলি হলেন কিশোরী মুক্তি খাতুন (১৭)। সে উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাদীপুর এলাকার আবদুর রহিমের কন্যা।

এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বাবা আবদুর রহিম বাদী হয়ে জামাইসহ অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত মুক্তি খাতুনের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের কুলিবাড়ী গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে মুক্তির প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। প্রেমের সর্ম্পকের সূত্র ধরে তিন বছর আগে সোহেল রানা প্রেমিকা মুক্তি খাতুনকে (নাবালিকা) বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে যায় এবং বিয়ে করে। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার কারণে বাবা আবদুর রহিম মুক্তি খাতুন ও তার স্বামী সোহেল রানাকে মেনে নেননি।
বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সোহেল রানা মুক্তি খাতুনকে তার বাবা আব্দুর রহিমের কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আনতে বলে। মুক্তি খাতুন যৌতুকের বিষয়টি এড়িয়ে গেলে স্বামী সোহেল রানা স্ত্রী মুক্তি খাতুনকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে। দীর্ঘদিন থেকে এভাবেই মুক্তি খাতুন স্বামী সোহেল রানার নির্যাতন সহ্য করে আসছে।
বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মুক্তি খাতুন ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১২ টার দিকে সোহেল রানা বাড়িতে ফিরে স্ত্রী মুক্তি খাতুনকে ঘুম থেকে ডেকে যৌতুকের টাকা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। মুক্তি খাতুন টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী সোহেল রানা তাকে মারপিট শুরু করে। এতে মুক্তি খাতুন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজন তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। মুক্তিকে রাতেই চিকিৎসকের কছে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মুক্তি খাতুনের বাবা আবদুর রহিমের অভিযোগ, রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সোহেল রানার পরিবারের সদস্যরা মুক্তি খাতুন বিষ পান করেছে বলে তাদেরকে জানায়। রাতেই তারা মেয়েকে বাঁচানোর জন্য ছুটে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামাই সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা তার মেয়েকে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। চারজনের নামে হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য