গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব পান্থাপাড়া এলাকার অন্ধ ও বিধবা আজিদা বেগমের ঘর সংস্কারসহ তার আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাজিতা ফাউন্ডেশন’।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে সংস্কার করা ঘর হস্তান্তর এবং আগামী এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ওই বৃদ্ধার হাতে তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চরম অভাবের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিলেন আজিদা বেগম। ছয় বছর আগে কোভিড মহামারির সময়ে চোখের দৃষ্টি হারান তিনি। সম্প্রতি অপরাজিতা ফাউন্ডেশন তার চিকিৎসার জন্য দুই দফায় ঢাকায় নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসার অভাবে তার চোখের নার্ভ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখ ভালো করা সম্ভব না হওয়ায় সংগঠনটি তাদের ‘স্বাবলম্বী প্রজেক্ট’-এর আওতায় আজিদা বেগমের থাকার জন্য নিরাপদ ঘর তৈরি করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তার চিকিৎসা ও সংসারের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছে।
বৃদ্ধা আজিদা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘মাথার কামড়, চোখের কামড়ে ঠিক থাকপার পাইনা। তখন আমার ওষুধ লাগে। অস্থিরের মধ্যে পড়ে যাই। যারা হামাক এতকিছু দিছে, যতদিন বাঁচে আছি। এইভাবে হামায় আল্লাহ যদি নিয়ে যায়। তাদেরও ছোলপোল নিয়ে যেন সুখে শান্তিতে দিন যায়।’
আজিদা বেগমের মেয়ে মোরশেদা বেগম বলেন, ‘শাড়ি, চাদর, ডিম, লাউ আলু, চাউল, মশলা, মাছ, তেল, কাঁচা বাজার যা লাগে তাই দিছে। অপরাজিতা ফাউন্ডেশন থেকে ঘরের মেরামত করে দিসে, থাকার মতো আশ্রয় করে দিছে।’
অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন বলেন, উনার চোখের চিকিৎসার চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হই, তখন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে উনার আজীবন তিন বেলা খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতা আজীবন চলতে থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/এমই