ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমীন জাহান আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন আসনে রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে এ আসনে মনোনয়ন দাখিল করা ১১ জন প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, মনোনয়ন না দেওয়ায় দলের প্রতি তাঁর কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই। দলের দুঃসময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনি রাজনীতি করেছেন। তাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অনেক সময় সেটি তাঁর বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়েও বড় ছিল। তবুও তিনি দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সংসদে এবং ২০১৯ সাল থেকে সংসদে যুক্ত হয়ে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, সেটি সবাই দেখেছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দল যখন তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছে, তখন এক মুহূর্তও চিন্তা না করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এরপরও দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেটিকে তিনি স্বাগত জানান।
এর আগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সরাইল আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সদর ও বিজয়নগর আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়।
এই তিনটি আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে ভোটার তালিকায় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নসিরনগর আসনের নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সদর বিজয়নগর আসনের আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান, কাজী জাহাঙ্গীর।
যাচাই-বাছাইয়ে এই তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে কোনো ধরনের জটিলতা না থাকায় সেগুলো বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
আজ ৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ কসবা আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসক শারমীন জাহান আক্তার জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি।
বিডি প্রতিদিন/আশিক