চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন চার নেত্রী। প্রধান দুই দল বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি কোনো আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এক নারী। বাকি তিনজনের মধ্যে দুইজন বাম রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছেন এবং একজন পেয়েছেন ইসলামী দলের সমর্থন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন নারী প্রার্থী ছিলেন। তবে স্বতন্ত্র এক নারী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং হাটহাজারী আসনের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি ও হুইপ প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম-১০ পাহাড়তলী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে আসমা আকতার। তিনি নগরীর ষোলশহর বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল পরিচালনা করছেন। একই আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন সাবিনা খাতুন, যিনি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম-১১ বন্দরের আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন দীপা মজুমদার, যিনি বাসদ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি। তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ভোটার তালিকার স্বাক্ষরের জটিলতার কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবীর বলেন, নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম হওয়া উদ্বেগজনক। সংরক্ষিত আসনের সংস্কৃতির কারণে নারীরা সরাসরি নির্বাচনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সামাজিকভাবে নারীদের আরও গৃহবন্দি রাখার প্রবণতা তাদের পিছিয়ে রাখছে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক