ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তার সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার নামে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তার হাতে রয়েছে নগদ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন রুমিন ফারহানা। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাবেক যুবদল নেতা মো. আলী হোসেন।
দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া হেবা সম্পত্তি যার মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ঢাকার লালমাটিয়ায় অবস্থিত পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট তিনি পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, যার জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া পুরানা পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি স্পেস রয়েছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা।
হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট উল্লেখ করেছেন। তার নামে কোনো ব্যাংক জমা, বিদেশি মুদ্রা, শেয়ার, বন্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ নেই। নিজের নামে কোনো যানবাহনও নেই। তবে তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও উল্লেখ করেছেন।
অপরদিকে, রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস হিসেবে নিজের আইন পেশা থেকে উপার্জিত ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন। এবং প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদী তার নির্বাচনের জন্য স্বেচ্ছায় ৫ লাখ টাকা দান করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের তিনটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আইনে ও ২০২৩ সালে একটি ফৌজদারী মামলা ছিল। চারটি মামলাই ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয়।
এছাড়াও তিনি হলফনামায় ২০১৯ সালে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করার বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ৬৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ৮০ শতাংশ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ৫০ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণ অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনটি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ