পাবনার দুটি সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আয়কর সনদ দাখিল না করা এবং হলফনামায় ভুল তথ্যসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুই দফায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা এ ঘোষণা দেন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া চার প্রার্থী হলেন— পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসনে গণফোরামের প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিন এবং পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল খালেক, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হাসানুল ইসলাম রাজা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নের সঙ্গে আয়কর সনদ সংযুক্ত না থাকায় শনিবার সকাল ১০টায় পাবনা-২ আসনের গণফোরাম প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
পরে দুপুর ২টায় পাবনা-৩ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে আয়কর বকেয়া থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হাসানুল ইসলাম রাজার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে হলফনামায় মামলাসংক্রান্ত তথ্য গোপন করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল খালেক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরীর মনোনয়নও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরও জানান, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
সুজানগর ও আমিনপুর থানা নিয়ে গঠিত পাবনা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৭ হাজার ৩৯৪ জন। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. হেসাব উদ্দিন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেহেদী হাসান রুবেল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আফজাল হোসেন খান কাশেমীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। এ আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আসগার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর নাদিম মোহাম্মদ ডাবলু এবং গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী সরদার আশা পারভেজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করলে তার মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল