জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ততই জমে উঠেছে। রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১৪টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শহরের ভোটারদের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের ভোট নিয়ে আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)। সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২১টি ও আট উপজেলায় ৯৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর, পাগালাপীর, মমিনপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের ভোটের প্রতি আগ্রহ বেশি। গ্রামের মোড়ে মোড়ে ভোট নিয়ে চলছে আলোচনা। কোনো প্রাথী এগিয়ে রয়েছেন এনিয়ে চলছে তর্ক-বিতক। কেউ কেউ সরাসরি প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন।
শ্যামপুর এলাকার ভোটার সামছুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার আশায় বিগত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটারের উপস্থিতি বেশি হবে। তিনি বলেন, শ্যামপুর হাটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ভোট নিয়ে আলোচনা। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট আড্ডা।
পাগলাপীর এলাকার লিমন মিয়া বলেন, পাগলপীর এবং আশপাশ এলাকায় বিগত দিনের চেয়ে বেশি ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাবেন। সর্বত্র ভোট নিয়ে আলোচনা চলছে।
জানাগেছে, রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
তথ্য মতে, রংপুর সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৮টি, তারাগঞ্জ উপজেলায় ৭টি, বদরগঞ্জ উপজেলায় ৮টি, মিঠাপুকুর উপজেলায় ৯টি, পীরগঞ্জ উপজেলায় ২৯টি, পীরগাছা উপজেলায় ১১টি এবং কাউনিয়া উপজেলায় ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানা এলাকায় ৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি, হারাগাছ থানা এলাকায় ৪৫টির মধ্যে ৩৫টি, হাজিরহাট থানা এলাকায় ২৪টির মধ্যে ১৫টি, মাহিগঞ্জ থানা এলাকায় ২২টির মধ্যে ১৪টি, পরশুরাম থানা এলাকায় ১৫টির মধ্যে ১০টি এবং তাজহাট থানা এলাকায় ২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রংপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৯টি, রংপুর-২ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৩৭টি, রংপুর-৩ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৬৯টি, রংপুর-৪ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৬৩টি, রংপুর-৫ আসনে ভোটকেন্দ্র ১৫২টি এবং রংপুর-৬ আসনে ভোটকেন্দ্র ১১৩টিসহ মোট কেন্দ্র ৮৭৩টি।
আরপিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেন জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩টি নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল