আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটতে চলছে শিগগিরই। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাবও। সময় ঘনিয়ে আসছে আর সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে প্রশ্নের উদ্রেক।
এদিকে বিএনপির শুরুর জনপ্রিয়তাও হচ্ছে ম্লান। ভোটের দিনের সুষ্ঠুতার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় ইতিহাস ওঠে আসছে। নেত্রকোনা জেলার ৫টি আসনে শুরুর দিকে সাধারণ মানুষের মাঝে একরকম ভাবনা থাকলেও শেষের দিকে ভাবনার গতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
শুরুর দিকে নেত্রকোনা-২ আসনের (সদর বারহাট্টা) ভোটের হিসাব কষলেও দিন যত যাচ্ছে তত প্রশ্নের তৈরি হচ্ছে। যে কারণে পাল্টে যাচ্ছে নীরব থাকা সহজেই বিএনপির ঘরে যাওয়া আসনটির হিসাব-নিকাশ। বিএনপির মনোনীত জেলার সভাপতি চিকিৎসক ডাক্তার আনোয়ারুল হকের সঙ্গে প্রথমে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এনামুল হক প্রার্থী হলেও পরবর্তীতে ১১ দলীয় জামায়াত জোটের মধ্যে এনসিপি থেকে ফাহিম রহমান খান নির্বাচনে থাকায় এই আসনটি বিএনপির জন্য পানির মতো সহজ মনে হয়েছিল। অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্যও করেছেন এই আসনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে। হয়েছে নানা সমীকরণ। এদিকে একই আসনে হাতপাখা অর্থাৎ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই জানান দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির অন্যতম নেতা ডাক্তার আরিফা জেসমিনের আপন ভাই আগেরবার নোঙর প্রতীক নিয়ে মাঠে নামলেও এবার লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করছেন।
নির্বাচনের সময় কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক বিষয়গুলোও সমানে আসছে। তবে নেত্রকোনায় বিএনপির সকল নেতাকর্মীরাই দলীয়ভাবে কাজ করছেন। এদিকে শেষের দিকে ১১ দলীয় জাটের শাপলা কলির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলাম।
অপরদিকে মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়ায় হাতপাখারও একটি রব উঠেছে। তবে পৌর এলাকার ভোটাররা দিনশেষে ভেতরে ভেতরে খোঁজ নিচ্ছেন জামায়াতের পাল্লা কেমন হবে।
বড়বাজার এলাকার জনি জানান, মানুষ আর এখন বোকা না। এখন প্রার্থী দেখে বা দল দেখেই ভোট দেবে এমন না। এবার সব কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখবে। কারা চাঁদাবাজি করে কারা মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়—এগুলোর হিসাব করে মানুষ ভোট দেবে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি