শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ২২:৫৪

নূরলদীনের মঞ্চের পর্দা নামল...

নূরলদীনের মঞ্চের পর্দা নামল...
জন্ম : ৬ নভেম্বর, ১৯৪৪ মৃত্যু : ২৭ নভেম্বর, ২০২০

মঞ্চে যখন আলী যাকের বিদ্রোহী নূরলদীন, রোমহর্ষে জেগে ওঠেন দর্শক। এরকম নানা চরিত্রে অভিনেতা-নির্দেশক আলী যাকের বারবার নতুন হয়ে ফিরে আসেন দর্শকের সামনে। একুশে পদকসহ বহু পুরস্কারধন্য এই অভিনেতার অনাকাক্সিক্ষত মহাপ্রয়াণ হয়েছে গতকাল ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। এই প্রয়াণে শোকাচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গন। তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদপান্থ আফজাল

 

যেভাবে পৃথিবীর মঞ্চে...

১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর। চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে সেদিন রাত ১০টার দিকে জন্ম হলো আলী যাকেরের। মাহমুদ তাহের ও রেজিয়া তাহেরের চার সন্তানের মধ্যে যাকের ছিলেন তৃতীয়। পিতার সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে শৈশব অতিবাহিত করেন। আলী যাকের ১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরিজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন।

 

ঢাকার জীবন

বাবার আবার পদোন্নতি হলো। তিনি হলেন প্রাদেশিক সরকারের সচিব। এবার গন্তব্য ঢাকা। ঢাকায় প্রথমে অভয় দাস লেনে, তারপর গেন্ডারিয়ায়। কামরুন্নেসা স্কুল ছিল বাড়ির কাছেই। গেন্ডারিয়ার বাড়িটি কেনা হয়েছিল ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। সব মিলিয়ে হাজার বিশেক টাকা খরচ হয়েছিল।

 

যেভাবে নাটকে

তখন পর্যন্ত নাটকের ‘ন’ও জানেন না তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা মিলে একটা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা করেছিল। সেখানে যে কটি বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন আলী যাকের, তার সব কটিতেই তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাকে চিকিৎসার জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়ার সময় শ¤ভু মিত্র আর উৎপল দত্তের বেশ কটি নাটক দেখেছিলেন তিনি। পরবর্তী জীবনে এই নাটক দেখার অভিজ্ঞতাই কাজে লেগেছিল তাঁর। ১৯৭২ সালে আলী যাকের আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৭২ সালের জুন মাসের দিকে আতাউর রহমান ও জিয়া হায়দারের আহ্বানে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। ওই দলে তিনি আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৭৩ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে তিনি প্রথম নির্দেশনা দেন ‘বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস’ নাটকে, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রর্শনীর যাত্রা।

 

চাকরি জীবন

অনার্স পাস করার পর এক দিন দাদা বললেন, ‘করাচি যাবি?’ গেলেন করাচি। কিছু দিন থাকার পর দেখলেন টাকা-পয়সা শেষ হয়ে যাচ্ছে। লিখলেন চিঠি, ‘পয়সা ফুরিয়ে গেছে।’ দাদার উত্তর, ‘দুই শ টাকা পাঠাচ্ছি, এরপর নিজে কিছু করে জোগাড় কর।’ সে সময়ই ডন পত্রিকায় দেখলেন এক চাকরির বিজ্ঞাপন। ডন ক্রফোর্ডস বলে ব্রিটিশ এজেন্সিতে ট্রেইনি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ শুরু করলেন। কতদিন আর ভালো লাগে। ফিরতে ইচ্ছা হলো ঢাকায়। সেই ডনেই দেখলেন ফ্যান্সি গ্রুপের বিজ্ঞাপন। এশিয়াটিক বলে একটি কোম্পানির ঢাকা অফিসে লোক নেওয়া হবে। তাঁরা ছিলেন কমার্স ব্যাংক, আইপিএস, ক্রিসেন্ট জুট মিলসের মালিক। সেখানে ঢুকে ঢাকায় ফিরলেন। ১৯৬৭ সালে করাচি গিয়ে ১৯৬৯ সালে ঢাকায় ফিরলেন। দেশে ফিরে এশিয়াটিকে চাকরি করেন।

 

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গেলেন। প্রশিক্ষণ নিলেন। কলকাতায় দেখা হলো চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিক আলমগীর কবিরের সঙ্গে। সৈয়দ আমির আলী এভিনিউয়ে। তিনিই বললেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ময়দানের যুদ্ধের মতোই জরুরি হলো প্রচারযুদ্ধ। বিশ্ববাসীকে বোঝাতে হবে আমরা ন্যায়যুদ্ধ করছি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটা ইংরেজি সার্ভিস শুরু করছে, লেগে যাও।’ সেখানেই ছিলেন যাকের। প্রচারণা চালিয়েছেন। হয়েছেন শব্দসংগ্রামী।

 

স্বাধীন দেশে নাট্যাঙ্গনে

স্বাধীন দেশে ঢাকায় এলেন। কাজ শুরু করলেন। দায়িত্ব নিলেন এশিয়াটিকের। ঢাকায় আসার পর মামুনুর রশীদ এক দিন বললেন, ‘তুই না কইসিলি নাটক করবি! ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটক করুম।’ আরণ্যকের কবর নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি নাট্যচর্চায় নিজেকে নিবেদন করেন। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে প্রথম অভিনয়। ২০ ফেব্রুয়ারি একটি আর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ও সন্ধ্যায় দুটি শো হয়েছিল নাটকটির। সকালের শো সরাসরি প্রচার করেছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। তা দেখেছিলেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি জিয়া হায়দার আর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। তাঁরা সন্ধ্যায় এসে আলী যাকেরকে নাগরিকে যোগ দিতে বলেন। মামুনুর রশীদের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় আরণ্যকের নতুন কিছু নেই, তাই মামুনুর রশীদও ‘না’ করেন না। ওই বছরেরই জুন মাসে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন আলী যাকের। তখন থেকে নাগরিকই তাঁর নাটকসংক্রান্ত ঠিকানা।

 

নাটকে বাঁক

নিঃসন্দেহে ব্রেশটের ‘সৎ মানুষের খোঁজে’ নাটকটি ছিল আলী যাকেরের জীবনের একটি বাঁক। নাগরিক রাজনীতির জন্য নাটক করেনি, নাটকের জন্যই নাটক করেছে। কিন্তু সে নাটকগুলো জীবনের স্পর্শবিহীন নয়। ব্রেশট কীভাবে যাকেরের কাছে এসেছিল? ব্রেশটের ওপর প্রথম বইটি তিনি পেয়েছিলেন মশিউদ্দিন শাকেরের কাছ থেকে। বইটিতে তিনি লিখে দিয়েছিলেন ‘যাকেরকে শাকের’। ব্রেশটের কাছাকাছি হয়ে আলী যাকেরের মনে হয়েছে, ব্রেশটকে রাজনৈতিক নাট্যকার হিসেবে ভাবার দরকার নেই। তিনি স্লোগানসর্বস্ব নন। মজার ব্যাপার, কোপেনিকের ক্যাপটেন, গ্যালিলিও, নূরলদীনের সারা জীবন, অচলায়তন, রক্তকরবী, দেওয়ান গাজীর কিস্সা করার পরও নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়কে অনেকেই স্রোতের বিপরীতে চলা নাট্যদল বলে মনে করে। কারণ, নাগরিক সরাসরি রাজনীতির কথা আনে না। যাঁরা মঞ্চে আলী যাকেরের অভিনয় দেখেছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে স্বীকার করবেন নূরলদীন, দেওয়ান গাজী আর গ্যালিলিও চরিত্রে তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের কথা। এই তিনটি চরিত্রই আলী যাকেরের প্রিয় চরিত্র। আরও একটি চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। তা হলো, শেকসপিয়রের কিং লিয়ার।

 

ক্যান্সারকে জয় করে আবার মঞ্চে

কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক বছর জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এরপর আবার যুক্ত হয়েছেন মঞ্চনাটকের সঙ্গে। ব্যবসায়ী হিসেবে সফল, এই সত্তরোর্ধ্ব বয়সে আবার কেন মঞ্চে আসা? হেসে বলতেন আলী যাকের, ‘ব্যবসা তো পেটের খিদে মেটায়, বুকের খিদে মেটাতে হবে না?’  সেই খিদে মেটানোর চেষ্টায় আছেন বলেই আমরা আবার মঞ্চে তাঁকে দেখতে পাচ্ছি।

 

শোকাহত সাংস্কৃতিক অঙ্গন

 

আবুল হায়াত

ছটলু, এভাবে চলে যাবে বিশ্বাস হচ্ছে না বন্ধু। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে থিয়েটার চর্চায় যে গতি এনে দিয়েছিলে বন্ধু এবং যে পথ প্রদর্শন করেছিলে তা কেউ কখনো ভুলতে পারবে না। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের স্বর্ণযুগের প্রধান কারিগরও যে তুমি তা আমাদের দল অনন্তকাল স্মরণে রাখবে। বাংলা মঞ্চের দেওয়ান গাজী, নূরলদীন, ম্যাকবেথ, গ্যালিলিও-তোমাকে জানাই টুপিখোলা বিদায় সম্ভাষণ। স্যালুট বন্ধু।

 

শিমুল ইউসুফ

বটবৃক্ষের ছায়া থেকে বঞ্চিত হলাম আমরা এই জীবনের মতো। স্নেহে, আদরে, ভালোবাসায় বুকে টেনে নেবে না আর। তোমার কষ্ট ক্লান্ত বুকের খাঁচা শান্ত হলো এ জন্মের মতো। ছটলু ভাই বুকটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। আমার ছটলু ভাই। আমাদের অহংকার, গর্ব! তুমি নিশ্চয়ই ঈশ্বরেরও প্রিয়। আমাদের ক্ষমা করে দিও।

 

গোলাম কুদ্দুস

আরেক নক্ষত্রের বিদায়। বিশিষ্ট অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

 

সুবর্ণা মুস্তাফা

কোনো শব্দ বা অনুভূতি প্রকাশের ভাষা নেই! আলী যাকের, আমাদের প্রিয় ছটলু ভাই অনন্তযাত্রায় পাড়ি জমিয়েছেন। সারা ভাবি, ইরেশ এবং শ্রিয়া অবশ্যই এই শোক সহ্য করার শক্তি সঞ্চয় করবে। ভালোবাসা ছটলু ভাই। আবার দেখা হওয়া পর্যন্ত বিদায়!

 

বিপাশা হায়াত

জন্মিলে মরিতে হয়। কোনোকালে এই সত্য মিছা হয়? একজন পরামর্শদাতা, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক, একজন আইকন, একজন কিংবদন্তি! আলী যাকের-স্যালুট মায়েস্ত্রো!

 

টনি ডায়েস

ছটলু ভাই! মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। আপনার শেখানো অভিনয়, মানবিক গুণাবলী আজও চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত জীবনে কাজে লাগানোর। সৌভাগ্য, জীবনের শুরুতেই আপনার কাছে থাকতে পেরেছিলাম। বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

জয়া আহসান

আলী যাকের চলে গেলেন, কিন্তু বাংলাদেশের মঞ্চকে রেখে গেলেন আরও অনেক উঁচু করে-অভিনয়ে, সংগঠনে, প্রবর্তনে। দীর্ঘাঙ্গ ছিলেন। শুধু শারীরিক অর্থে নয়, শিল্পের উচ্চতায়ও। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাঁর অনুপ্রেরণা মঞ্চে এনেছেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় দিয়েছেন তাঁর পূর্ণতা। বিনম্র শ্রদ্ধা, শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা।

সুমাইয়া শিমু

 রেস্ট ইন পিচ, আলী যাকের আঙ্কেল! যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।

 

সামিনা চৌধুরী

আলী যাকের, অভিনয়ের শক্তি। বিদায় নিলেন! আটকে রাখার শক্তি আমাদের কার আছে!

 

চঞ্চল চৌধুরী

গভীর শোক ও শ্রদ্ধা! চলে গেলেন যাকের ভাই। আমরা হারালাম প্রিয় নাট্যজন, একজন প্রাণের মানুষকে।

 

রোজী সিদ্দিকী

আমাদের গ্যালিলিও। আমার ও আমাদের মাথার ওপর স্নেহের দুটি হাত সরে গেল চিরতরে!

 

নুসরাত ইমরোজ তিশা

আলী যাকের-বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি আমাদের ছেড়ে আজ চলে গেলেন! আমার দেখা তিনি সবার মধ্যে অন্যতম একজন ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। সবার জন্য আলোকবর্তিকা। আল্লাহ তাঁকে অনন্তকালের শান্তি দান করুন।

 

বিজরী বরকত উল্লাহ

এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার!

 

শতাব্দী ওয়াদুদ

বিদায় হে অগ্রজ, আলী যাকের! শ্রদ্ধা...।

 

ফারুক আহমেদ

বাংলা নাটকের বিস্ময়কর অভিনেতা এবং নির্দেশক আলী যাকের চলে গেলেন। আমিন!

 

কামাল বায়েজিদ

বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অগ্রপথিক, বাংলা নাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা আলী যাকের ভাইয়ের প্রয়াণে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

রুনা খান

অভিনয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়, আমি একদা মঞ্চে ‘দেওয়ান গাজীর’ বেটি ‘লাইলি’ ছিলাম। বিদায় গাজীর বেটা দেওয়ান গাজী!

 

অপি করিম

বিদায়, আমার গ্যালিলিও...

 

জিয়াউল হাসান কিসলু

কিংবদন্তি মঞ্চনাট্য সম্রাটের অনন্তলোকে যাত্রা শান্তিময় হোক।  

 

নবনীতা চৌধুরী

যারা শিল্পচর্চা আর শিল্পীসত্তা দিয়ে কোটি কোটি মানুষের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছেন, তাঁদের কাউকে হারালে, সে বেদনা বুকে বাজে।

 

রবিশঙ্কর মৈত্রী

একজন পরিপূর্ণ চিরপ্রিয় মানুষ আলী যাকের চিরবিদায়  নিলেন, শ্রদ্ধা!

 

নুনা আফরোজ

থিয়েটারের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম বাতিঘর, স্বাধীন দেশের মঞ্চের প্রথম বিস্ময়কর অভিনয় প্রতিভা!

 

একনজরে

মঞ্চনাটক : কবর, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, বাকি ইতিহাস, বিদগ্ধ রমণীকুল,  তৈল সংকট, এই নিষিদ্ধ পল্লীতে, দেওয়ান গাজীর কিস্সা, সৎ মানুষের খোঁজে, অচলায়তন, কোপেনিকের ক্যাপ্টেন, ম্যাকবেথ, টেমপেস্ট, নূরলদীনের সারা জীবন, কবর দিয়ে দাও, গ্যালিলিও।

চলচ্চিত্র : আগামী (১৯৮৬), নদীর নাম মধুমতী (১৯৯৬), লালসালু (২০০১), রাবেয়া (২০০৮)

টেলিভিশন : (ধারাবাহিক) বহুব্রীহি (১৯৮৮), আজ রবিবার (১৯৯৯)। (একক নাটক) একদিন হঠাৎ, নীতু তোমাকে ভালোবাসি, পাথর সময়, অচিনবৃক্ষ, আইসক্রিম, পান্ডুলিপি, গণি মিয়ার পাথর।

পুরস্কার : একুশে পদক-১৯৯৯, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক।

স্ত্রী ও সন্তান : তাঁর সহধর্মিণী নাট্যজন সারা যাকের এবং দুই সন্তান ইরেশ যাকের, শ্রিয়া সর্বজয়া।


আপনার মন্তব্য