দেশের কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে অবদান রেখেছেন। এজন্য তিনি অর্জন করেছেন একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। ১ জুলাই ছিল এই শিল্পীর জন্মদিন। সৈয়দ আবদুল হাদী সংগীত জীবনে সফলতা পেয়েছেন কিন্তু জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁকে একটি আক্ষেপ আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। আর সেটি হলো- বাবার একটি ইচ্ছা পূরণ করতে না পারা। সৈয়দ আবদুল হাদী এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর শৈশব কেটেছে আগরতলায় নানির কাছে। পরে বাবার চাকরির কারণে চলে আসেন সিলেটে। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর ও ঢাকায় পড়াশোনা করেন। বাবার চাকরি ছিল তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (ইপিসিএস)। বদলির চাকরির কারণে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে হতো পরিবারকে। শিল্পীর ভাষ্য, তখনকার সময়ে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও দূরত্ব-দুটোই ছিল। তিনি বলেন, ‘বাবার সামনে কখনো চোখ তুলে কথা বলার সাহস হতো না। তখনকার প্রায় সব পরিবারেই এমন পরিবেশ ছিল।’
আলাপচারিতায় বাবাকে ঘিরে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপের কথাও জানান তিনি। স্মৃতিচারণা করে বলেন, একবার পটুয়াখালীতে কর্মরত অবস্থায় বাবা তাঁকে সেখানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। অন্য অনেক শিল্পী গেলেও তিনি আর যাননি। এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, ‘এখনো বিষয়টা মনে হলে খুব খারাপ লাগে। নিজেকেই শাস্তি দিতে ইচ্ছা করে। বাবার এতটুকু অনুরোধও রাখতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরে বাবা চাইতেন আমি যেন তাঁর কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বসি, গল্প করি। কিন্তু তখন আমি বরং ভাবতাম, কীভাবে দ্রুত উঠে আসা যায়।’
দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সৈয়দ আবদুল হাদীর উপলব্ধি, মানুষের জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি কিছু অপূর্ণতাও থেকে যায়। আর বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটাতে না পারা সময়ের সেই আক্ষেপই আজও তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংগীত করছেন। সৈয়দ আবদুল হাদী পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালে সংগীতে অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।