শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৮

কভিডের আগে পশ্চিমবঙ্গ জিততে চান মোদি

কভিডের আগে পশ্চিমবঙ্গ জিততে চান মোদি

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে সচরাচর প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনকে এতটা তৎপর হতে দেখা যায় না যেমনটি দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে। ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যতবার এবং যেরকম ঘন ঘন রাজ্যে এসেছেন, তা বেনজির। যদিও কভিড পরিস্থিতি বিচার করে রাজনৈতিক দলগুলো একে একে গণ কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যতিক্রম বিজেপি। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, নাড্ডাদের রাজ্যে আসা এবং জনসভা করার কর্মসূচি অব্যাহত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অবধারিতভাবেই মনে পড়ে যাচ্ছে গুজরাট দাঙ্গার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির সেই ঐতিহাসিক উক্তির কথা। নরেন্দ্র মোদি তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে প্রশাসনিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কার্যত রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি নরেন্দ্র মোদিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন প্রজা পালনের রাজধর্মের কথা। নিজের দলের রাজনৈতিক দায়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বকে কি অস্বীকার করলেন না প্রধানমন্ত্রী উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু দেশের সংবিধান কী বলে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রচারে ব্যস্ত বলে কভিড নিয়ন্ত্রণের আর্জিতে কান দিতে পারছেন না এই ব্যাপারে আইন কী বলে? ‘আইন নির্দিষ্ট করে কিছুই বলে না।’ বললেন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ। তার সোজা কথা, ‘আপনি কী রকম মানুষ, আপনি কোনটাকে গুরুত্ব দেবেন, প্রাধান্য দেবেন, তার উপরেই সব নির্ভর করে। অরুণাভ ঘোষ সরাসরি কটাক্ষ করেছেন, সেই দায়িত্ববোধ পড়াশোনার উপর নির্ভর করে। যে কোনটা প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী যদি ভাবেন পশ্চিমবঙ্গে যে করেই হোক জিততে হবে, সেটাই তার প্রায়োরিটি, তা হলে কিছু করার নেই।

অথচ যে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী, বা বিজেপির অন্যান্য নেতারা নিয়মিত প্রচারে আসছেন, সেখানকার অবস্থা সত্যি সঙ্গিন। সংক্রমণের হিসেবে রাজ্যের শীর্ষে আছে কলকাতা। সেখানে কভিড হাসপাতালগুলো প্রায় ভর্তি। কোথাও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। অক্সিজেনের জোগানে টান পড়েছে। এমনকী কভিড রোগীদের চিকিৎসা করতে যে ওষুধগুলো প্রয়োজন, তার মজুতেও টান পড়েছে।

অবশ্য, এই অবস্থায় বামেরা আগেই ঘোষণা করেছিল, তারা আর কোনো বড় জনসভা করবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে জোর দেবে। কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, করোনা বাড়ছে দেখে তিনি আর পশ্চিমবঙ্গে জনসভা করবেন না। রবিবার মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কলকাতায় কোনো বড় জনসভা করবেন না। রোড শো-ও নয়। জেলায় ছোট সভা করবেন। সেখানে মিনিট পনেরো ভাষণ দেবেন। তবে বিজেপি এরকম কোনো ঘোষণা করেনি। গতকালই  ষষ্ঠ দফার ভোটের প্রচার শেষ হয়েছে। এই দিন পশ্চিমবঙ্গে চারটি জনসভা করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা জনসভা ছাড়াও রোড শো করেছেন। ডয়চে ভেলে

এই বিভাগের আরও খবর