শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৮

দেড় বিলিয়ন ডলার ই-কমার্সের বাজার

বিশ্বে ৪৬তম অবস্থানে বাংলাদেশ ♦ ২০২০ সালে বাজার ২ বিলিয়ন ছাড়াবে, ২০২৩ হবে ৩ বিলিয়ন ডলার ♦ প্রায় ৫০ হাজার ফেসবুক পেজে চলছে ব্যবসা, সক্রিয় ২০ হাজার উদ্যোক্তা ♦ বড় শহরে আটকে আছেন উদ্যোক্তারা, গ্রামে ডেলিভারি চালু হয়নি ♦ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে ৯০ শতাংশ পণ্য বিক্রি ♦ বিদেশি পণ্য অর্ডারের নামে প্রতারণা

রুহুল আমিন রাসেল

দেড় বিলিয়ন ডলার ই-কমার্সের বাজার

দেশে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে। প্রায় ৫০ হাজার উদ্যোক্তা ফেসবুকে পেইজ খুলে ব্যবসা করছেন। সক্রিয় ২০ হাজারের বেশি। এরপরও লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসায়। দ্রুতগতিতে হচ্ছে ব্যবসা সম্প্রসারণ। ফলে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যা চলতি বছর দুই বিলিয়ন ও ২০২৩ সালে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর তথ্য দিয়েছে জার্মান ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ই-ক্যাবের তথ্যমতে- ক্রেতারা  মূলত শহরকেন্দ্রিক। ই-কমার্সের ৮০ শতাংশ ক্রেতা ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের। এদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ঢাকার, ৩৯ শতাংশ চট্টগ্রামের এবং ১৫ শতাংশ গাজীপুরের। অন্য দুটি  শহর  হলো-  নারায়ণগঞ্জ  ও সিলেট। ৭৫ শতাংশ ই-কমার্স ব্যবহারকারীর বয়স ১৮-৩৪-এর মধ্যে। দেশে ই-কমার্স খাতের বিকাশের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে- ই-কমার্স সহায়ক উপযুক্ত জাতীয় নীতিমালার অভাব, ই-কমার্স উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা, ধীরগতিসম্পন্ন ও ব্যয়বহুল ইন্টারনেট, পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা উন্নয়ন, ইন্টার-অপারেবল অবকাঠামো, দক্ষ ই-কমার্স প্রযুক্তি সহায়ক প্রশাসন ও মানবসম্পদের অভাব। আরও চ্যালেঞ্জ হলো- আস্থাশীল ই-কমার্স পরিবেশের অভাব, অনলাইনে কেনাকাটায় জনসাধারণের অভ্যস্ততার অভাব ও ভীতি। ভোক্তা অসন্তোষ নিরসনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অভাব। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতে ব্যাংকিং সুবিধা দিতে অনীহা ও কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ না থাকা এবং পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব ইত্যাদি। এমন প্রেক্ষাপটেও ই-কমার্সের বিশ্বে বাংলাদেশ ৪৬তম অবস্থানে থাকার তথ্য দিয়েছে জার্মান গবেষণা সংস্থা।

এ প্রসঙ্গে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজীব আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন- ই-কমার্সের বাজার বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর মধ্যদিয়ে এর ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। তবে চ্যালেঞ্জ হলো- গ্রামে গ্রামে পণ্য পৌঁছানোর  ব্যবস্থা চালু হয়নি। কেবলমাত্র ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে আটকে গেছে ই-কমার্স। প্রায় ৫০ হাজার উদ্যোক্তা ফেসবুক পেইজে ব্যবসা করছেন। তাদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা সক্রিয়। এই খাতে ৯০ শতাংশ পণ্য ক্যাশ অন ডেলিভারি বা নগদে হওয়ায় টাকা মেরে দেওয়ার ঘটনা খুবই কম। তবে বিদেশি পণ্য এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রি-অর্ডারের নামে কিছু প্রতারণা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের সতর্কতাও জরুরি। স্ট্যাটিস্টার সর্বশেষ তথ্যমতে- ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্সের বাজার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা চলতি বছর বেড়ে ২ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার হবে। আর আগামী ২০২৩ সালে বাজারের আকার হবে ৩ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার।

ই-ক্যাব সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত গতিতে। গত তিন বছর ধরে এই খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০০ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে এই খাত। বাংলাদেশে ই-কমার্সের এক নম্বর জায়গাটি চীনের আলিবাবার দখলে। বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনও। আর সম্প্রতি এই বাজারে ঢুকেছে পূর্ব ইউরোপের আরেকটি বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউভি। বড় বড় বিদেশি কোম্পানিগুলো হঠাৎ আগ্রহী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ নিয়ে। কারণ- এই খাতে মাসে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ বার্ষিক লেনদেন এখন ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

জানা গেজে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত। আলিবাবা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ই-কমার্সে ঢুকেছে ‘দারাজ’ কিনে নেওয়ার মাধ্যমে। সব ধরনের পণ্যই এখন বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাবেচা হয়। তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। অনলাইনে অর্ডার দেওয়া গেলেও নগদ অর্থেই লেনদেন বেশি হয়। এটাকে বলা হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি। অর্ডার অনলাইনে দেওয়া হলেও কল সেন্টার থেকে ফোন করে সেটি আবার নিশ্চিত করা হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে আসে। কাজেই পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স বাংলাদেশে এখনো সেভাবে চালু হয়নি। জানা গেছে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ‘দারাজ’। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এটা কিনে নিয়েছে। দারাজ শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান। ই-কমার্সের পরে যারা আছে, তারা সবাই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। যেমন আজকের ডিল, বাগডুম, প্রিয় শপ, রকমারি, পিকাবু এবং অথবা। পূর্ব ইউরোপের বড় ই-কমার্স কোম্পানি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢুকেছে। এর নাম কুভি। প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাজন বাংলাদেশে আসার জন্য বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরাসরি হয়তো বাংলাদেশের বাজারে এখনই ঢুকছে না।

জানা গেছে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইনের প্রচার ও প্রসার। ফলে প্রচলিত বিক্রি ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে গ্রাহক পর্যায়ে সরাসরি পণ্য পৌঁছে দিতে দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ই-কমার্স ব্যবসা। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ভুয়া অনলাইন পেজ খুলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকটি চক্র।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর