শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুন, ২০২১ ২৩:৪০

কৃষি

লকডাউনে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারে ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

লকডাউনে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারে ধস
Google News

লকডাউনের খবরে সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আমের বাজারে ধস নেমেছে। ক্রমাগত দাম নিম্নমুখী হওয়ায় আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। এই সুযোগে পরিবহনের নামে কোরিয়ার সর্ভিসগুলো প্রতি কেজি আম রংপুরের বাইরে পাঠাতে অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আম চাষিরা লোকসানের মুখে পড়লে আমকে ঘিরে এ অঞ্চলের গতিশীল অর্থনীতি হোঁচট খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরে হাঁড়িভাঙা আম পাড়া ও বাজারজাত শুরু হয়। ঝড়-বাদলে কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন ভালো হয়েছে। পরিবহন ও বাজারজাত নিশ্চিত হলে শুধু হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করে রংপুরের চাষিরা ২০০ কোটি টাকার ওপর ঘরে তোলার আশা করেছিল। প্রথম অবস্থায় প্রতি কেজি আম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হলেও লকডাউনে যানবাহন চলবে না, পাইকাররা আসছেন না এমন অজুহাতে আমের দাম নেমে এসেছে প্রকার ভেদে ১৫ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। শ্যামপুরের আম চাষি সামছুজ্জামান বলেন, তিনি তার বাগান আগাম বিক্রি করেছেন ১ লাখ টাকায়। ক্রেতা অগ্রিম দিয়েছে ৬০ হাজার টাকা। আমের দাম কমে যাওয়ায় বাকি টাকা দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে তার লোকসান হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। পদগঞ্জের আম চাষি রায়হান ও নূরুল ইসলাম জানান, অনেক আশা ছিল আম বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু বাজারে হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় তারা চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। খোড়াগাছ ইউনিউনের তেকানি গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, তার বাবা হাঁড়িভাঙা আমের জনক। বাবার আমল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের ওপর নির্ভর করছে আমাদের জীবন-জীবিকা।

 করোনার কারণে গত বছর খুব একটা লাভ হয়নি। এবার লকডাউনের কারণে ঢাকা এবং অন্যান্য স্থানের পাইকাররা আম কেনার জন্য আসতে পারছেন না। তাই আমের দাম কম। এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। এদিকে আম চাষি ও খুচরা ক্রেতারা অভিযোগ করেন, রংপুরের বাইরে ঢাকায় প্রতি কেজি আম পাঠাতে ১৫ থেকে ১৮ টাকা গুনতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরে অন্য জেলায় এক কেজি আম পাঠাতে খরচ হচ্ছে ২০ টাকার মতো। রংপুর কৃষি অফিসের মতে এবার দেড় হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে শুধু হাঁড়িভাঙা আমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ি ঢাকার অতিরিক্ত উপপরিচালক আবু সায়েম জানান, কৃষি অফিস বিষয়টি মনিটরিং করছে। সরকারিভাবে আম পাঠানোর চিন্তা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর