শিরোনাম
২১ জানুয়ারি, ২০২২ ২০:১৫
চট্টগ্রামে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

বিএনপির বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে সরকারের কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বিএনপির বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে সরকারের কাছে

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। নয়াপল্টন অফিসের ঠিকানা দিয়ে তারা লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ কাজের জন্য কিভাবে অর্থ বাংলাদেশ থেকে গেল সেগুলো তদন্ত ও দেখভাল সরকারের যে সমস্ত বিভাগ ও দপ্তর করে, তাদের ইতিমধ্যে সেগুলো জানানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম চিশতি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মনওয়ার রিয়াদ মুন্নাসহ নেতৃবৃন্দ।

হাছান মাহমুদ বলেন, যে ১২টি মানবাধিকার সংগঠন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‌্যাবকে বাদ দিতে চিঠি লিখেছে সেখানে দুই-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব, এগুলোর নাম আমরাও আগে শুনিনি, আপনারাও শুনেছেন কিনা আমার জানা নাই। এই চিঠি দিয়েছে গত বছরের ৮ নভেম্বর, দুই মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর এটি হঠাৎ মিডিয়ায় কেন নিয়ে আসলো? এটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে, তাদের অবৈধ অর্থ লবিস্ট ফার্মে লগ্নি করে, তারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য, রফতানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করার জন্য, দেশের সমৃদ্ধি-প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। প্রকৃতপক্ষে জনগণের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা নাই, তাই ষড়যন্ত্রের পথটাই বেছে নিয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের মধ্যে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ। একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিরুদ্ধে যখন এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে, তারা দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে কিনা সেই প্রশ্নই এসে দাঁড়ায়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা করার জন্য এফবিআই-এর এজেন্ট ভাড়া করেছিল। এফবিআই’র সেই এজেন্টকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলি এজেন্টের সাথে বৈঠক করেছিলেন, সে বৈঠকের ছবিসহ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করানোর জন্য বিএনপি-জামায়াত লবিস্ট নিয়োগ করেছিল। বিএনপি কি এগুলো অস্বীকার করতে পারবে? তাদের অপকর্ম যখন আজকে বেরিয়ে এসেছে, তখন তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য আবোল-তাবোল বকছে, এর বেশি কিছু নয়।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে আইন করা হচ্ছে, সেটা জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না-টিআইবি’র এমন বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন এবং গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সংলাপে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একটা আইন করার কথা বলেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, পুরো বিষয়টা হচ্ছে রাজনৈতিক। টিআইবি কাজ করে দুর্নীতি নিয়ে, এটির সাথে তো দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নাই। রাজনৈতিক ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে টিআইবি প্রমাণ করেছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করে। টিআইবি’র এই বিবৃতির সাথে বিএনপির বিবৃতির মিল আছে। রাজনৈতিক ইস্যুতে টিআইবির বিবৃতি দেখে আমি নিজেও আশ্চর্য হয়েছি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে তাদের রক্ষা করার জন্য বিবৃতি দিতে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুদ্ধপরাধীদের রক্ষার জন্য নানাভাবে চেষ্টা তদবির করেছে। অথচ ইসরায়েলে ঢিল ছোড়ার প্রত্যুত্তরে ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে নারী শিশুদের যখন হত্যা করে, তখন এ সমস্ত সংগঠন কোনো বিবৃতি দেয় না। এ সমস্ত সংগঠন যেসব দেশে বসে কাজ করে, সেসব দেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় যখন এ ধরনের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় তখনও কোনো বিবৃতি দেয় না। সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। সুতরাং র‌্যাবকে জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাদ দেওয়ার তাদের যে আহ্বান, তা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর