৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:০৩

ভারত-বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত-বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: স্পিকার

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ব্যবসা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সংস্কৃতি ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত-বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কর্মকর্তারা ভারতের লোকসভায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে যা ব্যাহত হয়েছে। গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্র হিসেবে দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

বৃহস্পতিবার সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ভেন্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা’র সাইড লাইনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ভারতীয় লোকসভার মহাসচিব, ভিয়েনায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সাক্ষাতকালে তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ আন্তঃদেশীয় সম্পর্কোন্নয়ন, দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতি, বিরাজমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, লোকসভা টিভি ও সংসদ টিভির সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।

লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নসহ বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় ভবিষ্যতে যে কোনো বিষয়ে একত্রে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন লোকসভার স্পিকার। একইসঙ্গে ভারতের লোকসভার ‘সরকারি হিসাব কমিটি’র ১০০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লোকসভার স্পিকার বাংলাদেশের স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। স্পিকার তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই দিনে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পিস কনফারেন্স থাকায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ পরস্পর অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও ভারতের জনগণ বাংলাদেশকে যে সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছিল তা সত্যি হৃদয়স্পর্শী। মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বরাবরই ব্যতিক্রম। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এর আগে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ ও অস্ট্রিয়ান পার্লামেন্টের সহযোগিতায় আয়োজিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অফ স্পিকার্স অফ পার্লামেন্ট-এর "পার্লামেন্টস এন্ড গ্লোবাল গর্ভন্যান্স: দা আনফিনিসড এজেন্ডা" শীর্ষক আলোচনায় সভায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক। সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও সুশাসন সমুন্নত করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সংসদীয় কার্যক্রম গতিশীল ও জোরদার করতে হবে। 

এতে আরো বক্তব্য রাখেন আর্মেনিয়া ন্যাশনাল এসেম্বলির চেয়ারম্যান এলেন সিমোনিয়ান, ভারত লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা, বুরুন্ডির সিনেট স্পিকার ইমানুয়েল সিঞ্জোহাগেরা, মন্টেনিগ্রো সংসদের স্পিকার এলেস্কা বেসিস প্রমুখ। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর