যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপযাপন করেছে ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশন। এ উপলক্ষ্যে দূতালয় প্রাঙ্গণ বর্ণাঢ্য ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সুসজ্জিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে দূতালয় প্রাঙ্গণে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। এ সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়।
এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। পরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। একইসঙ্গে সকল বীরাঙ্গনা, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। এরপর গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হতে হবে।
একাত্তরের বীর যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গঠনে সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে একাত্তরের সকল শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/কেএ