মানবিক বাংলাদেশ, বেকারত্ব দূর ও বৈদেশিক আয়ের সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে কেয়ার গিভার। এতে আর অবহেলায় পড়ে থাকবেন না প্রবীণরা। দেশে অনেক স্থানে সেবার অভাবে অনেক প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। কিছু এলাকায় কেউ মারা গেলেও স্বজনরা জানতে পারছেন না। এই করুণ দৃশ্যের অবসান ঘটাবে কেয়ার গিভাররা। দেশে-বিদেশে কেয়ার গিভারের প্রচুর চাহিদা থাকলেও প্রশিক্ষণের তেমন ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কেয়ার গিভার প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। সম্প্রতি বার্ড মিলনায়তনে প্রায়োগিক গবেষণা প্রশিক্ষণ সমাপনীতে বক্তারা বলেন, এই পেশার মাধ্যমে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের দেখাশোনা করা যায়। এই পেশায় ভালো বেতন ও সম্মান মিলে। উন্নত বিশে^ এই পেশার অনেক চাহিদা। সেবা ও ধৈর্য এই পেশার বড় পুঁজি। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা মহীয়সী নারী ভেলোরি টেইলর। সভাপতিত্ব করেন বার্ড মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, ময়নামতি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. কবীর হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন কোর্স পরিচালক বার্ডের যুগ্ম পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বার্ড মিলনায়তনে হাতে-কলমে মানুষের সেবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ৩০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে বার্ড মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় তাদের সমাপনী অনুষ্ঠান। সেখানে সনদ হাতে পেয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মবিশ^াসী হতে দেখা যায়। অনুভূতি ব্যক্ত করেন তরুণ-তরুণীরা। একজন প্রশিক্ষণার্থীর পায়ে সমস্যা, খুঁড়িয়ে হাঁটেন। কিন্তু তিনি প্রচণ্ড আত্মবিশ^াসী। প্রশিক্ষণে তিনি সবার সেরা হয়েছেন। তিনি সেবার সঙ্গে নিজের বেকারত্বও দূর করবেন বলে জানান। প্রশিক্ষণার্থী উম্মে সুমাইয়া বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। ৩০ দিন এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। হাসপাতালে গিয়ে রোগীর ম্যানেজমেন্ট দেখেছি। আমরা ব্লাড সুগার মাপা, প্রেশার মাপা, ইনজেকশন পুশসহ বিভিন্ন কাজ শিখেছি। দেশে-বিদেশে কেয়ার গিভিংয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটা আমাদের পারিবারিক জীবনের সঙ্গে আমাদের আয়ের ক্ষেত্রেও ভালো ভূমিকা রাখবে।’
তানভীর হোসেন বলেন, ‘এখানে হাতেকলমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো শিখেছি। এই সেবাগুলো সাশ্রয়ীমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারব।’
কোর্স পরিচালক বার্ডের যুগ্ম পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান বলেন, ‘এটি একটি স্বপ্নের প্রজেক্ট। বার্ড, সিআরপিসহ বিভিন্নজনের সহযোগিতায় আমরা এই প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন করেছি। অসহায় মানুষের গায়ে একজন প্রশিক্ষিত মানুষ মমতার পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন এটা ভাবতেই আনন্দ পাই।
প্রশিক্ষণের পর অনেকে সেবায় নেমে গেছেন। এটি আরও বৃহৎ পরিসরের করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ বার্ড মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বার্ড গবেষণার সঙ্গে প্রায়োগিক গবেষণাও করে। আমরা লোকজনকে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছি। তার মধ্যে অন্যতম বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কেয়ার গিভার প্রশিক্ষণ। এটা আমরা ২০২২ সাল থেকে স্বল্প সক্ষমতার মধ্য দিয়ে শুরু করেছি। আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছি। তার একটি সিআরপি। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চলছে। কেয়ার গিভারে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সেবার পাশাপাশি বৈদেশিক আয়েরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’ সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভেলোরি টেইলর বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক সুন্দর দেশ। এ দেশের মানুষও চমৎকার। অনেকে বলেন, আমি সেক্রিফাইজ করেছি। আসলে আমি কোনো সেক্রিফাইজ করিনি, আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।’ তিনি কুমিল্লায় দুস্থ মানুষের সেবায় এমন আয়োজনের জন্য বার্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া সিআরপির সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।