শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৫

জলাবদ্ধতা ও মশার উৎপাত বড় সমস্যা

আলী আজম

জলাবদ্ধতা ও মশার উৎপাত বড় সমস্যা

দরজায় কড়া নাড়ছে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচন। জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। ঢাকা উত্তর সিটি কাপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দুজন এবং বিএনপির দুজন প্রার্থী প্রচারণায় এগিয়ে। নানা সমস্যায় জর্জরিত নবগঠিত ৫০ নম্বর ওয়ার্ড। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। জানা গেছে, দক্ষিণখান থানাকে ঘিরে ৫০ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের উত্তরে সুবার বাড়ি, দক্ষিণে আশকোনা হাজী ক্যাম্প উত্তর পাশ, পশ্চিমে রেললাইন পশ্চিম পাশ এবং পূর্বে তুরাগ সিএনজি পাম্প। লোকসংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ এবং ভোটার ৫২ হাজার ৬০০। মোল্লারটেক উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ এই ওয়ার্ডে ৪৩টি মসজিদ, ১৭টি মাদ্রাসা এবং একটি মন্দির রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও মশার উৎপাত এই ওয়ার্ডের বড় সমস্যা। স্থানীয়রা বলছেন, অবহেলিত জনপদের নাম ৫০ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে এখনো তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টিতে এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সুয়ারেজ লাইন ও রাস্তা ভালো নয়। মশার উৎপাত ও যানজট নিত্যসঙ্গী। এসব কারণে মানুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারে না। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের। মাদকে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। আমরা এ অবস্থার অবসান চাই। এলাকার উন্নয়নে যার অবদান থাকবে কাউন্সিলর হিসেবে তাকেই নির্বাচিত করব। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এই এলাকার প্রবেশদ্বারখ্যাত আজমপুর ও কসাইবাড়ি রেললাইনে যানজট লেগেই থাকে। পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অটোরিকশা থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন। হাই কোর্ট থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ করা হলেও এই এলাকায় অটোরিকশা দিব্যি চলছে। মাদক ও ইভ টিজিং বন্ধে এলাকায় সিসিটিভি ও গুরুত্বপূর্ণস্থানে ফ্লাগ লাইট লাগানো প্রয়োজন। সুপেয় পানিও নিশ্চিত করতে হবে। আজমপুর রোডের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, আজমপুরে ড্রেন না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়। আজমপুর রেলগেটে অটোরিকশার ফলে ২৪ ঘণ্টাই যানজট লেগে দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। দলমত নির্বিশেষে আমরা একজন ভালো কাউন্সিলর চাই, যে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, মানুষের পাশে থাকবে। একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চাই। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ ডি. এম. শামীম। তিনিও এবার দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। দক্ষিণখান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফও এবার দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় এগিয়ে আছেন দক্ষিণখান থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মো. নাজিম উদ্দিন। প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির আরেক প্রার্থী ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। বিএনপির এই দুই প্রার্থীই দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির এসব প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আলহাজ ডি. এম. শামীম বলেন, নবসৃষ্ট এই ওয়ার্ডের উন্নয়নে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো বরাদ্দ পাইনি। যা উন্নয়ন করা হয়েছে সব ব্যক্তিগত উদ্যোগে। সিটি করপোরেশনের সব ধরনের সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। দুস্থ, অসহায়, অসুস্থদের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিদিনই সহযোগিতা করছি। তিনি বলেন, আধুনিক, টেকসই ও বাসযোগ্য হিসেবে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডকে গড়ে তোলা হবে। নবগঠিত এই ওয়ার্ডের সময় পেলাম মাত্র ৮ মাস। আমি চাই নতুন এই ওয়ার্ডে নির্বাচন না দিয়ে আমাকে পূর্ণ মেয়াদে (৫ বছর) কাজ করা সুযোগ দেওয়া হোক। বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ান মো. নাজিম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকার উন্নয়ন করে আসছি। জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আমাকে এবং আমার পরিবারকে ভালোবাসে। এখানে বিএনপির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমি দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া এবং জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।


আপনার মন্তব্য