ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নগরী বগুড়া অবশেষে উন্নয়নের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ১৫০ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে ১৩তম সিটি করপোরেশন ঘোষণা করাসহ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে বহুমুখী অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক উন্নয়নের সূচনা করেছেন বগুড়ার কৃতী সন্তান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় গত ১৭ বছরে বগুড়ার দৃশ্যত কোনো উন্নয়ন করা হয়নি। বগুড়ার উন্নয়নে অনীহার নেপথ্যে ছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি। তবে ওই সময় এলাকার জনগণকে উন্নয়নের খোয়াব দেখাতে দফায় দফায় মন্ত্রী-এমপিরা বগুড়া সফর করলেও কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার মধ্য দিয়ে জেলাবাসীর স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হলো। সিটি করপোরেশন শুধু একটি মর্যাদা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেড় শ বছরের পুরোনো এ শহরকে নতুন করে সাজাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সুপেয় পানির সরবরাহ, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, সেবার মান বৃদ্ধিসহ পরিকল্পিত নগরায়ণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে এখন প্রধান লক্ষ্য হলো একটি টেকসই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি। এ ছাড়া শহরের তীব্র যানজট নিরসন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে পিছিয়ে পড়া বগুড়ার উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জেলার মানুষ এখন খুশি। বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াবাসীকে বড় এক উপহার দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামো উন্নয়নে নাগরিকরা এখন থেকে অনেক বেশি সুবিধা পাবেন। সিটি করপোরেশন হিসেবে পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ বাড়বে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৭১ কোটি টাকার বাজেট থাকলেও এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৪০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০ এপ্রিল তারেক রহমানের প্রথম বগুড়া সফর। এই সফরে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়ায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ওইদিন তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন, ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা এবং বগুড়া প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন ও বায়তুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আধুনিকায়ন, গাবতলীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন, বাগবাড়ীতে চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। এ ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, বিমানবন্দর সচল করা, ভারী শিল্পপার্ক ও যমুনা নদীতে ট্যুরিস্ট স্পট নির্মাণের পরিকল্পনার মাধ্যমে অঞ্চলটিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার কথা বলেন। তিনি বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণাও দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী অন্তত ৫০ বছরের নাগরিক চাহিদা পূরণ করতে পারে এমন সব টেকসই প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বগুড়া থেকে মীর শাহে আলম এমপিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে বগুড়াবাসীকে নয়া আনন্দে ভাসিয়েছেন। পাশাপাশি বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে দৃঢ় সংকল্পের জানান দিয়েছেন। ধীরে ধীরে বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের এক রোল মডেল মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার।