সকাল দুপুর সন্ধ্যা বা গভীর রাত, সিলেটে চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। কখন আসবে আর কখন যাবে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। রীতিমতো অতিষ্ঠ সিলেটবাসী। এর মধ্যে আবার তীব্র গরম। তাপমাত্রা উঠানামা করছে ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তীব্র গরম আর অসহনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। চরম বিপাকে পড়েছেন সিলেটের পরীক্ষার্থীরা।
গত কয়েকদিনে সিলেটে বিদু্যুতের যন্ত্রণা বেড়েছে। পরিস্থিতি বলতে গেলে অসহনীয় পর্যায়ে। সকাল বিকাল দুপুর সন্ধ্যা, বিদ্যুৎ থাকে যাতায়াতের মধ্যে। একবার গেলে ফিরতে ফিরতে সময় লাগে ঘণ্টাখানেকের বেশি। এরপর আরও ঘণ্টাখানেক পরে ফের উধাও। এমন পরিস্থিতিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। সিলেটের ৭১ হাজার ৭১১ শিক্ষার্থী বসছেন গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষায়। তাদের অনেকের অভিযোগ, বিদ্যুতের যন্ত্রণায় তারা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। অসহনীয় গরমে বিদ্যুতের থাকা না থাকার কারণেই এ অবস্থা। সিলেট সরকারি কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবিদুল হাসান। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষা কি হবে জানি না। বিদ্যুতের কারণে প্রস্তুতিই তো নেওয়া যাচ্ছে না। উপজেলাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। সারা দিনে ১৪/১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাই লোডশেডিং বেড়েছে। সিলেটে পিক অ্যাওয়ারে পিডিবির চাহিদা ২৪০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট।
কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। এতে ঘাটতি বেড়েছে ৩ হাজার মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিংও বেড়েছে। এটা আমাদের জাতীয় সংকট। আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের (পিডিবি) প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন বলেছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতির উন্নতি হতে কত সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনই তা বলা যাচ্ছে না।