নিবন্ধন পেতে বিলম্ব, সময় স্বল্পতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও জোটগত রাজনৈতিক বাস্তবতার মতো বিভিন্ন কারণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি রাজনৈতিক দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দিয়েছে।
এই দল চার হলো: বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি সময়ের অভাবে এবার মাত্র একজন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছে। দলটির চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মন নিজেও দেরি হওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। দলটির একমাত্র প্রার্থী সুব্রত মণ্ডল খুলনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুশান্ত চন্দ্র বর্মন বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ১২ দিন পর, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে আমরা নিবন্ধনের সনদ হাতে পাই। দলের প্রায় ২৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ দিনে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করায় আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হই।
নিজের বিষয়ে সুশান্ত বলেন, ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই মিনিট দেরি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন নেয়নি। আইন অনুযায়ী তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও জোরালো প্রচারণা থাকা দরকার ছিল। এতে প্রার্থীরা আরও সচেতন হতেন।
বাংলাদেশ ন্যাপও নির্বাচনে মাত্র একজন প্রার্থী দিয়েছে। দলটির মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া জানান, শুরুতে তাদের প্রায় ৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত একটি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমার ৫০ হাজার টাকার জামানত ছাড়াও প্রচার–প্রচারণার খরচ ছোট দলগুলোর জন্য বড় চাপ। তাই দলের চেয়ারম্যানের আসনটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নীলফামারী-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি।
জাগপাও মাত্র একজন প্রার্থী দিয়েছে। দলটির মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান জানান, তার দল এককভাবে নয়, ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্যের অংশ হিসেবে নির্বাচন করছে।
তিনি জানান, দিনাজপুরে দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাকের পর ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ায় তিনি নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না। এ কারণে ওই আসনটি দল নিজেরাই ছেড়ে দেয়।
রাশেদ বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার পর পঞ্চগড়-১ আসনটি অন্য এক শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তাব পেলেও সেখানে জামায়াতের প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকায় তিনি নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
গণতন্ত্রী পার্টি থেকেও মাত্র একজন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে (তাড়াইল ও করিমগঞ্জ উপজেলা) লড়বেন দিলোয়ার হোসান ভূঁইয়া।
দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি একাই দল থেকে প্রার্থী হয়েছি। আমরা ছোট দল, কেন আরও প্রার্থী দেওয়া হয়নি এ বিষয় দলের প্রধানই বলতে পারবেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ইসি সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন তুলি বলেন, বড় দলগুলোর মতো সব ছোট দলের ৩০০ আসনে বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক থাকে না। অনেক দল তাদের সক্ষমতা ও জনবল বিবেচনায় পাঁচ, দশ বা নির্দিষ্ট কিছু আসনে মনোযোগ দিতে পারে। অতীতেও এ ধরনের প্রবণতাই দেখা গেছে।
সূত্র: টিবিএস
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ