তামিলনাড়ুতে ঝুলন্ত বিধানসভা ও সরকার গঠন ঘিরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে প্রায় তিন দশক আগের বিজেপি নেতা প্রমোদ মহাজনের একটি ভাষণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়া বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম টিভিকে এখনো সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না পাওয়ায় এবং ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টার কারণে রাজনৈতিক মহলে ওই ভাষণের প্রসঙ্গ ফের উঠে এসেছে।
১৯৯৭ সালের ১১ এপ্রিল লোকসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়ার ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকারের আস্থা ভোট বিতর্কে দেওয়া প্রমোদ মহাজনের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আবার ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়ায় ভাষণটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নতুন করে সামনে এসেছে।
১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি ১৬১টি আসন নিয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। শিবসেনাসহ মিত্রদের নিয়ে বিজেপির আসন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৯৪।
তবে তেলুগু দেশম পার্টি টিডিপি ডিএমকে ও আসাম গণপরিষদের মতো আঞ্চলিক দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে সমর্থন দেয়নি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পেরে মাত্র ১৩ দিনের মাথায় বাজপেয়ী সরকার পদত্যাগ করে।
এরপর কংগ্রেস ও বিজেপিবিহীন দলগুলো মিলে ইউনাইটেড ফ্রন্ট গঠন করে। কংগ্রেস বাইরে থেকে সমর্থন দেয় এবং প্রায় ১৯০ আসনের জোট সরকার গঠন করে দেবেগৌড়া প্রধানমন্ত্রী হন।
পরবর্তীতে কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরী অভিযোগ করেন, তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। একই সময়ে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে পুরোনো দুর্নীতির তদন্ত জোরদার হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ে। এসব ইস্যুতে ১৯৯৭ সালের ৩০ মার্চ কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
আস্থা ভোটের বিতর্কে প্রমোদ মহাজন জোট রাজনীতির বৈপরীত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দল বিরোধী দলে রয়েছে, দ্বিতীয় বৃহত্তম দল সরকারে নেই কিন্তু বাইরে থেকে সমর্থন দিচ্ছে, আবার এক আসনের দলের নেতাও মন্ত্রিসভায় আছেন।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, এটি এমন এক পরিস্থিতি যেখানে সরকার গঠনের সমীকরণ বাস্তবতার চেয়ে বেশি জটিল। তার বক্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে দেবেগৌড়া সরকার পতন হয়। পরে কংগ্রেসের সমর্থনে আইকে গুজরাল প্রধানমন্ত্রী হলেও সেই সরকারও স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী নির্বাচনে আবার ঝুলন্ত লোকসভা গঠিত হয় এবং জোট রাজনীতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জোট রাজনীতির পুরোনো বাস্তবতাকেই সামনে আনছে। এখানে সবচেয়ে বড় দল সবসময় ক্ষমতায় যায় না, বরং ছোট দলগুলোর সমর্থনই অনেক সময় সরকার গঠনের নিয়ামক হয়ে ওঠে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক